ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, তাকে অপসারণে বিরোধীরা যে গণভোটের দাবি জানিয়েছে তা এ বছর হবে না। তিনি বলেন, এ বছর গণভোট অনুষ্ঠানের কোনো সময় নেই। রাজধানী কারাকাসে এক সমাবেশে রবিবার তিনি এ কথা বলেন। গত শুক্রবার জাতীয় নির্বাচন কাউন্সিল জানায় গণভোটকে অবৈধ আখ্যা দিতে ৬ লাখ লোকের স্বাক্ষর করা একটি দাবি তাদের কাছে এসেছে।
বিরোধীরা বলছেন, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ সরকারের সঙ্গে এক হয়ে এ গণভোট বাতিল কিংবা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা আরো বলছেন, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ (সিএনই) এখন পক্ষপাত দুষ্ট হয়ে পড়েছে। তারা তাদের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তাদের স্বাক্ষর করা পিটিশন এখন বাতিলের ষড়যন্ত্র চলছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হেনরিক ক্যাপরিলস বলেন, তাদের স্বাক্ষর করা পিটিশন সরিয়ে ফেলা হচ্ছে যাতে করে তাদের দাবির বিপরীতে শক্ত কোনো প্রমাণ না থাকে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হেনরি র্যামোস আল্লুপ বর্তমান এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত লজ্জাজনক ও প্ররোচনামূলক বলে অভিহিত করেন। প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেন, তাকে অপসারণে গণভোটের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবেন। তিনি বলেন, সবকিছুর বিবেচনায় যদি গণভোট ঠিক হওয়ার সিদ্ধান্ত হয় তবে তা আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি গণভোটের পক্ষে যথার্থ সমর্থন না থাকে তাহলে তা হবার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর সমস্ত পদক্ষেপ বন্ধ করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এ নির্বাচনে সময়ের বিষয়টা বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০১৭ সালে ১০ জানুয়ারি যদি গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে মাদুরো হেরে যান তাহলে নতুন নির্বাচন ডাকা হবে। আর এ নির্বাচন যদি এরপরে হয় তাহলে তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। সে হিসাবে তিনি ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। অর্থাত্ মাদুরোর যে সময় পর্যন্ত থাকার কথা ছিল সেই পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকবেন।