ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামধারী গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে নিজ বাড়ির সামনে একজন ফরাসি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে এলিট ফোর্সের গুলিতে নিহত হয় হামলাকারী।
বিবিসি জানায়, পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার পর তার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে তার সঙ্গীনি ও সন্তানকে জিম্মি করে ওই হামলাকারী। এ সময় ফ্রান্স পুলিশ তার সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ সময় হামলাকারী ঐ পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যা করে। পুলিশ কর্মকর্তার ছেলেকে উদ্ধারের জন্য এরপর হামলাকারীকে হত্যা করা হয়।
সোমবার রাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে মাগনানভিলে এ ঘটনা ঘটে বলে বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে। হামলাটি আইএস চালিয়েছে বলে জঙ্গিগোষ্ঠীটির বার্তা সংস্থা আমাক দাবি করেছে। নিজেদের ওয়েবসাইটে সংস্থাটি বলেছে, "আমাক সংস্থার সূত্র: ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধা লে মুরো শহরের পুলিশের উপপ্রধান ও তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে।"
ফ্রান্সের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সন্ত্রাস-বিরোধী ইউনিটের আইন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে এক সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইএস জড়িত, এটি নিশ্চিত হলে জরুরি অবস্থা জারি থাকা অবস্থায় ফ্রান্সের মাটিতে চালানো প্রথম জঙ্গি হামলা হবে এটি।
গেল নভেম্বরে প্যারিসে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা চালিয়ে ১৩০ জনকে হত্যা করার পর এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ঘটনাস্থল মাগনানভিল প্যারিস থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং লে মুরো থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তা লে মুরো পুলিশের কমান্ডার ছিলেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা সাদা পোশাকে ছিলেন। ছুরি হাতে তার উপরে হামলা চালানোর সময় হামলাকারী সম্ভবত ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করেছিলেন। হামলাকারী এরপর বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে একজন নারী ও এক শিশুকে জিম্মি করে।
পুলিশের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় হামলাকারী আইএসের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পিরেরি হেনরি ব্রাদেত জানিয়েছেন, রাত ৯টার দিকে (স্থানীয় সময়) পুলিশ কর্মকর্তার হত্যাকারী দুজনকে জিম্মি করার পর সেখানে পুলিশের আরএআইডি ইউনিটকে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যরাতের দিকে ‘অভিযান চালানোর’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযান শুরু হওয়ার পর পর ভারী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিবিসি।