নারীদের আতঙ্ক পিছলা ভূত!

 
সন্ধ্যা নামতেই ‘ভূতে’র আতঙ্কে ঘরে ঢুকে যাচ্ছে পুরো গ্রাম। নারী-শিশুরা ঘরে বসে থাকছে। আর পুরুষরা রাত জেগে পাহার দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের শামুকতলার প্রতিটি গ্রামের চিত্র এটি।
 
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই ভূতের নাম দেয়া হয়েছে ‘পিছলা ভূত’। রাতের অন্ধকারে নারীরা বের হলেই তাদের জাপটে ধরছে। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিবেশীরা। ‘ভূতের’ শরীর নাকি এতটাই পিচ্ছিল যে ধরতে গেলেই পিছলে পালিয়ে যাচ্ছে। এই অত্যাচার থেকে বাঁচতে অনেকে ছুটছেন তান্ত্রিকের কাছে, করছেন পূজা-অর্চনাও। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। কেউ কেউ দাবি করছেন পুলিশি টহলেরও।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার ডাঙ্গি নতুন কলোনিতে প্রথম পিছলা ভূতের দেখা পাওয়া যায়। সেখানকার বাসিন্দা নিমাই বিশ্বাস অন্য রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। স্ত্রী অনিমা দেবী দুই সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকেন।
 
অনিমা দেবীর বর্ণনায়, রাত নয়টার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত এগারোটার দিকে বাইরে গেলে একটি ছায়া আমাকে জাপ্টে ধরে। আমি ঝটকা দিয়ে ছাড়িয়ে চিত্কার করে সেটিকে ধরে ফেলি। কিন্তু সেটির শরীর এতটাই পিচ্ছিল যে কোনোভাবে ধরে রাখতে পারিনি। প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই পালিয়ে যায় সেটি।
 
তারপর দিন তখন রাত সাড়ে সাতটা। ওই গ্রামের এক বাসিন্দার ১৭ বছরের মেয়ে পাশের বাড়ি থেকে টিভি দেখে ফেরার সময় পিছলা ভূত তাকে টেনে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। চিত্কার শুনে প্রতিবেশী এক যুবক সেটিকে ধরেও ফেলে। কিন্তু একই ভাবে পিছলে পালিয়ে যায় সেটি। এরকম আরো কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
 
গ্রামের মানুষ বুঝতে পেরেছেন, এটা কোনও দুষ্টু লোকের কাজ। এই ঘটনাগুলির সঙ্গে যে ভূত-প্রেতের কোনও ব্যাপার নেই। কোহিনূর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার শুরু হয়েছে।
 
শামুকতলা থানার ওসি এলপি ভুটিয়া বলেন, আমরা কয়েকটি গ্রাম থেকে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তবে লিখিত আকারে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তদন্ত শুরু করা হয়েছে। রাত টহল বাড়ানো হয়েছে।