ফুফুর কাছে পিৎজা দাবি করেছিল অঙ্কিত, কিন্তু সেটা না দেয়ায় পাঁচতলা থেকে লাফ দিতে কার্নিশে ওঠে। আর তাতেই আসামের শিলচর বাসিন্দারা ভয়াল আতঙ্কের দুপুর কাটিয়েছে।
‘নড়িস না বাবা’, ‘লাফাস না বাবা’, ‘অনেক পিৎজা দেব’ অনুনয় বিনয় করে উপস্থিত মানুষজন। পুলিশ-দমকল বাহিনী কোনও সময় ছাদ থেকে, কোনও সময় দেয়াল বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। আর ওর মধ্যেই পিৎজার শোকে পাঁচ তলার কার্নিশে দাঁড়িয়ে নিচে লাফ দেওয়ার হুমকি দিয়ে সবাইকে তটস্থ করে রেখেছে ১৩ বছরের কিশোর। শেষ পর্যন্ত ঘণ্টা দুয়েক তার পিছনে পড়ে থেকে মান্না বড়ভুইয়া নামে এক যুবক দালান বেয়ে আচমকা তার পা ধরে ফেলে। মান্নার পিছনে পিছনে এগিয়ে যায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর এক সদস্য। তখন ছাদ থেকে রশি ফেলা হলে দুইজনে মিলে তাঁর কোমর বেঁধে দেন। অন্যরা তাকে টেনে ছাদে নিয়ে যায়।
শনিবার দুপুরে এত হইচই, সেই অঙ্কিত পাল আসলে শিলচরের ছেলে নয়। তার বাড়ি আসামেরই নওগাঁও জেলার যমুনামুখে। পড়ত সেখানকারই সেন্ট্রাল স্কুলে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর আর স্কুলে পাঠানো যাচ্ছিল না তাকে। বাবা নির্মল পাল ও মা তপতী পাল অতিষ্ঠ হয়ে যান। শেষে ফুফু জলি পাল তাকে শিলচরে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, শিলচরে থেকেই অঙ্কিত পড়াশোনা করবে।
বৃহস্পতিবারই তাকে শিলচরে নিয়ে আসা হয়। লিঙ্ক রোডে ফুফুর বাড়ি। কাল রাতে হঠাৎ পিৎজা খাওয়ার বায়না ধরে। ফুফা-ফুফু তাতে একদমই গুরুত্ব দেননি। আজ সকালে মায়ের সঙ্গে ফুফুর বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় ফোনে। পিৎজা প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। সেই সময় অঙ্কিত ফোন টেনে কী একটা বলতে চেয়েছিল মাকে। জলিদেবী সে সুযোগ দেননি। এর পরই ছাদে উঠে পাইপ বেয়ে জানালার কার্নিশে নেমে গিয়ে দাঁড়ায় অঙ্কিত।
প্রথমে বিষয়টি পথচারীদের দু’-একজনের নজরে পড়ে। দেখতে দেখতে নিচে ভিড় জমে যায়। এরই রেশে শহর জুড়ে যানজট মাত্রা ছাড়ায়। ছুটে যায় পুলিশ, দমকল, এসডিআরএফ। কান্নায় ভেঙে পড়েন ফুফু। কার্নিশে দাঁড়িয়েই শত-শত পিৎজার ‘অফার’ পাচ্ছিল অঙ্কিত। দু’-একজন গিয়ে দোকান থেকে পিৎজা কিনেও নিয়ে আসে। তবু নামতে রাজি হয়নি। তার একটাই বক্তব্য, এই জীবন রেখে লাভ নেই। তাই সে মরতে চায়।
তবে নিচে নামানোর পরেও অভিমান কমেনি তার। পিসিকেই নানা ভাবে দোষারোপ করছিল। পুলিশ তাকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়। তবে শরীরের কোথাও কোনও চোট লাগেনি। ছিল না কোনও অস্বাভাবিকতাও। পুলিশ ফুফু জলিদেবীর হাতেই তাকে তুলে দেয়। এলাকার পুরসদস্য অসিত সরকার জানিয়েছেন, এরপরই তার বাবাকে ফোন করা হয়েছে। তিনি কালই এসে ঘরের ছেলেকে ঘরে নিয়ে যাবেন। আনন্দবাজার।
ইত্তেফাক/সাব্বির