বগুড়ায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যকাণ্ডের প্রধান আসামি আমিনুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া আমিনুল বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর।
বগুড়া জেলা পুলিশ রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গ্রেফতার করেছে। জেলা পুলিশের একটি দল গোপনে মোবাইল ট্র্যাকিং করে তাকে গ্রেফতার করে। তাকে নিয়ে জেলা পুলিশের দল বগুড়ার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন : ‘বাংলাদেশে কিছু করার সামর্থ্য নেই উগ্রবাদীদের’
গত ১৪ এপ্রিল রাতে বগুড়া শহরের উপ-শহর বাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন। নিহত শাহীনের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।
বিএনপি নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ এপ্রিল এজাহারভুক্ত একজনসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শহরের নিশিন্দারা মধ্যপাড়া এলাকার মৃত কালু শেখের ছেলে পায়েল শেখ (৩৮) ও নিশিন্দারা মন্ডলপাড়ার আবু তাহেরের ছেলে রাসেল (২৮)। পায়েলের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে।
এই দু’জনের মধ্যে শাহীন হত্যা মামলায় পায়েল শেখ এজাহারভুক্ত আসামি। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে খুন করে পালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল।
তাদের গ্রেফতারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শাহীনকে খুন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডে বিস্তারিত বিবরণও দেন তিনি।
গত ১৮ এপ্রিল গ্রেফতারকৃত আসামি পায়েল শেখ এবং এর দু’দিন পর অপর আসামি রাসেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশ এরপর থেকে মামলার প্রধান আসামি বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর মো. আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। মোবাইল ট্র্যাকিং করে শেষ পর্যন্ত ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হলো তাকে।
ইত্তেফাক/কেআই