দিল্লির আদালতে কৌঁসুলিরা
অভিযুক্তদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৮
দিল্লীর একটি আদালতে সরকারি কৌঁসুলিরা বলেছেন, চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে ঐ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শনিবার আদালতে শুনানির সময় সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, রাসায়নিক পরীক্ষায় ঐ পাঁচজনের কাপড়ে তরুণীর রক্ত পাওয়া গেছে। এদিকে রবিবার যুক্তরাজ্যের সানডে পিপল সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তরুণীর বাবা তার মেয়ের নাম প্রকাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার নাম প্রকাশে যৌন নির্যাতনের শিকার অন্যান্য নারীরা বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পাবেন বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া ঐ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ এনে তরুণীর বন্ধু টেলিভিশনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার ফলে দিল্লীতে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
আদালতে চাঞ্চল্যকর ঐ মামলার কৌঁসুলিরা বলছেন, চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ডিএনএ ও রাসায়নিক পরীক্ষায় তাদের ঐ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে। কৌঁসুলিরা বলছেন, বাসের চালক পুলিশের কাছে এই বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, তাদের পরিকল্পনাই ছিল, বাসে কোন নারী উঠলে তারা তাকে ধর্ষণ করবে। আসামিদের সোমবারের মধ্যে আদালতে হাজির করার আদেশ দিয়েছে দিল্লীর আদালত। তবে ঐ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ এনে নিহত তরুণীর বন্ধু একটি টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তারা রাস্তার পাশে পড়ে ছিলেন। এরপর একটি পুলিশের গাড়ি এলেও তাদের কোথায় নেয়া হবে তা নিয়ে তর্ক করে দীর্ঘ সময় পার করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লীর পুলিশ।
এদিকে সানডে পিপল নির্যাতিতা জয়োতি সিং পান্ডে ও তার পিতার নাম প্রকাশ করে জানিয়েছে নির্যাতিতার পিতা তাদের নাম প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। তবে নির্যাতিতার পরিবারের অনুরোধে নির্যাতিতার কোনো ছবি প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি। যৌন অপরাধের জন্য নতুন আইন করে তা তার কন্যার নামে নামকরণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই পিতা।
গত ১৬ ডিসেম্বরে ঘটে যাওয়া ঐ ঘটনা ভারতে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও সহিংসতা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি এই মামলার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। ।