কেমন হবে ২০১৩
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৯
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিবিসির বিভিন্ন বিভাগের প্রধানেরা। ইরান, আমেরিকা, বারাক ওবামা, ইউরোপের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে পূর্বাভাসে।
প্রধান আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি লাইসে ডুকেটের দৃষ্টিতে
বড় ঘটনা: ‘শয়তানের পক্ষে’র কথা মনে আছে? যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এ মত প্রকাশ করেছিলেন। সিরিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়া নিয়ে এ বছর কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। ২০১২ সাল শেষ হয়েছে পশ্চিমাপন্থি কিছু নেতার শক্ত বিবৃতির মাধ্যমে। নেতারা বলেছেন, তারা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তার পরিমাণ আরো বাড়াবেন। এ বছর আসাদের পতন হতে পারে। কিন্তু ক্ষমতার এ পালাবদলে ঘটতে পারে অনেক রক্তপাত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে কী হবে?
বছরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশা করছেন। আর জয়ী হলে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি বিশ্ব নেতাদের উপর চাপ প্রয়োগ করবেন। আফগানিস্তানের আগামী নির্বাচন এবং ২০১৪ সালে দেশটি থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো বাহিনীর সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে চাপে আছেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তালেবানের কিছু নেতা সরকারের সঙ্গে গোপন আলোচনায় বসলেও অনেকে বসবেন না। মালালা ইউসুফজাই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বিশ্বব্যাপী নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে তরুণ-তরুণীদের উদ্দীপ্ত করতে সাহায্য করবেন।
উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সম্পাদক মার্ক মার্ডেলের দৃষ্টিতে
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: সংবাদ ভাষ্যে আরবের গণজাগরণ অব্যাহত থাকবে। তবে আমি বেশি আগ্রহী জানতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চীন ও আমেরিকার মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক হবে না সংঘাত দেখা দিবে। আমেরিকার অর্থনীতি শক্তিশালী রুপে ফিরে আসবে। আশ্চর্যজনকভাবে ম্যানুফাকচারিং সেক্টর এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মূলত এটি আমেরিকার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সক্ষমতার ভিত্তিতে হবে। ইউরোপে সংকট লেগেই থাকবে। এটি পিছলে আরো পেছনের দিকেই ধাবিত হবে।
বছরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার নিজস্ব এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়ন করেত পারবেন? পারবেন এগুলোর বৈধতা দিতে দৃঢ় হতে? আমি মনে করি উত্তর হবে হ্যাঁ। যদি জন কেরি আমিরেকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন তাহলে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইবেন। আর সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর চাক হেগেল যদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন তাহলে তা দেশের ডানপন্থিদের ক্রুদ্ধ করে তুলবে। যারা তাকে ইসরাইলবিরোধী বিশ্বাসঘাতক বলে আখ্যা দিয়েছিল। আমি মনে করি নতুন চীনা নেতা শি জিমপিং তার মতো করে একটি নতুন ধারা আনবেন। তার মানে এই নয় যে, তিনি তার খোলস ছিঁড়ে বেরুবেন।
অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিনিধি স্টিফেন ফ্লেন্ডারসের দৃষ্টিতে
গুরুত্বপূর্ন ঘটনা: বাজারই নির্ধারণ করবে ইউরোজোনের সদস্যরা পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে কিনা। কিন্তু স্পেন ও ইটালির অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবে পুরো ইউরোপ। অর্থনীতির কৌশল নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও জার্মাানির চ্যান্সেলরের মধ্যে তীব্র লড়াই চলতে থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা: আমি মেক্সিকোর নতুন প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েটার উপর দৃষ্টি রাখবো, দেখতে কিভাবে তিনি বর্ধমান অর্থনীতিক সাফল্যকে পুঁজির দিকে নিয়ে যায়। যদি তিনি মাদক যুদ্ধেও সাফল্য পান তাহলে বছর হতে পারে মেক্সিকোর। যদি কাজুমাসা আইওয়াটা ব্যাংক অব জাপানের পরবর্তী গভর্নর হন, তাহলে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের ডাক দিতে পারেন। মূল্যস্ফীতির আশংকা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিবেন।
কূটনীতিক সংবাদদাতা জেমস রবিনের দৃষ্টিতে
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: সামপ্রদায়িক ও জাতিগত সংঘাতের বিষ ছড়িয়ে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ তীব্রতর হবে। আসাদ সরকারের পতন হবে। পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে ইরান তার সামর্থ্যের সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালাবে। ২০১৩ সালে ইরানে বাইরের কোনো শক্তি হস্তক্ষেপ করবে না। তবে হামলার প্রচেষ্টা চলবেই। ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বিবর্ণই থেকে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি: ইটালিতে যদিও সিলভিও বারলুসকোনির ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। মারিও মন্টির পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লেখাতে পারেন মধ্য বামপন্থি নেতা পিয়ের লুইস বারসানি। ইউরোজোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ ইটালির একটি রূপান্তর ঘটাতে হবে। খুব সহজেই এ প্রক্রিয়া ব্যর্থ হবে না আবার খুব সহজেই প্রক্রিয়া সফল হবে না।
প্রযুুক্তি বিষয়ক প্রতিনিধি ররি সেলান জোনসের দৃষ্টিতে
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: মোবাইলের মাধ্যমে বেশি ওয়েবে প্রবেশ করবে। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের চেয়ে মানুষ মোবাইলের ফোনের মাধ্যমে বেশি ইন্টারনেটে প্রবেশ করবে। আর এটি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুদ্ধ ভীতিপ্রদ হবে। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম, অ্যাপলের আই ফোন এবং আইপ্যাড প্রযুক্তি বাজার দখলে রাখবে। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ-৮ ফোন এবং ব্ল্যাকবেরি-১০ জানুয়ারির মধ্যে তৃতীয় স্থান দখলের জন্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি: গুগলের সাবেক কর্মী মারিসা মায়ের আবারো ইয়াহুর প্রাসঙ্গিক উপাদান বানানো শুরু করবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইচপির মেগ হুইটম্যান আবারো হারানো বাজার ধরতে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বেন। বেয়ারবোনস কম্পিউটারের নির্মাতা ইবেন উপটনকে দেখাতে হবে নতার ডিভাইস স্কুল শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার দেখানোর প্রক্রিয়ার রূপান্তর ঘটাতে হবে।