পাক-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা

পাক-ভারত সীমান্তে কাশী্মরকে বিভক্তকারী নিয়ন্ত্রণ রেখার (লাইন অব কন্ট্রোল) কাছে মঙ্গলবার পাকিস্তানি সৈন্যদের গুলিতে দুই ভারতীয় সৈন্য নিহত হওয়ার পর দুইদেশের সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তে হত্যার বিষয়ে উভয় দেশ একে অপরকে দোষারোপ করছে। এ নিয়ে কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাকিস্তানের এই হামলার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তারা এই হামলাকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করেছেন। এছাড়া এটি উভয়দেশের মধ্যে সংলাপকেও ব্যাহত করবে বলে বলেছেন।—খবর বিবিসি, রয়টার্স, এনডিটিভির। ভারতের পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ কাশ্মীরে পাকিস্তানের এ হামলার বিষয়ে বলেছেন, তারা এর জবাব সমানভাবেই দিবেন। তিনি বলেন, এই হামলা দুই দেশের মধ্যে সংলাপকে ব্যাহত করা ছাড়া আর কিছুই নয়। বুধবার এনডিটিভি নিউজ চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী একে এন্টনি বলেছেন, সীমান্তে ভারতীয় জওয়ানদের হত্যা অত্যন্ত উত্তেজনাকর একটি বিষয়। এটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পতনে উস্কানি হিসাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা পাকিস্তান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাবো। তিনি আরো বলেন, যেভাবে আমাদের সৈন্যকে হত্যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে অমানবিক। বর্তমানে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। মঙ্গলবারের হামলার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের কাশ্মীর অংশে (নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে) পাকিস্তানি সৈন্যরা ওইদিন গুলি চালিয়ে দুই ভারতীয় সৈন্যকে হত্যা করেছে। পাকিস্তান অবশ্য ভারতের এ অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। ভারতের এই দুই সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো ঠিক তার দুইদিন আগে একই নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবরে পাকিস্তান অংশে কাশ্মীরে এক পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলের কমান্ডের মুখপাত্র রাজেস কে. কালিয়া ঘটনার বর্ণনায় বলেন, পাকিস্তানি সেনারা ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত ফাঁড়ির দিকে এগুচ্ছিল। তাদের এ তত্পরতা ধরা পড়ে গেলে দু’পক্ষের প্রায় আধঘন্টা গুলি বিনিময়ের পর পাকিস্তানি সৈন্যরা নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে পিছু হটে। নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে পাকিস্তানি সৈন্য অনুপ্রবেশের এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০০৩ সাল থেকে কাশ্মীরে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অনেক কমে আসলেও বর্তমানের এ ঘটনা পাক-ভারত বিরোধকে আবার বাড়িয়ে তুলল।