অর্ধেক খাদ্যই অপচয় হচ্ছে

বিশ্বে প্রতি বছর যত খাদ্য উত্পাদন হচ্ছে, তার অন্তত ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অপচয় হচ্ছে। নষ্ট হওয়া এই খাদ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টন। কয়েকদিন আগে ব্রিটেনে প্রকাশিত এক সমীক্ষা রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, আমেরিকা এবং ইউরোপের ধনী দেশগুলোতেই খাদ্য অপচয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এসব দেশে মানুষ যে খাদ্য কেনেন তার অর্ধেকই তারা না খেয়ে ফেলে দেন। তবে উন্নয়নশীল এবং দরিদ্র দেশগুলোও খাদ্য অপচয়ে পিছিয়ে নেই, সেখানে অপচয়ের মূল কারণ মাঠ থেকে খাদ্যশস্য তোলা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মওজুদের প্রাচীন পদ্ধতি। ব্রিটেনের ইনস্টিটিউশন অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের গবেষণায় বলা হচ্ছে, অপচয়ের কারণ বিভিন্ন দেশে বিভিন্নরকম। যেমন-যুক্তরাজ্যে বছরে যে পরিমাণ শাক-সবজি উত্পাদন হয়, তার ৩০ ভাগ কেবল তাদের আকার-আকৃতির কারণে মাঠ থেকেই তোলা হয় না। কারণ সুপারমার্কেটে ক্রেতারা এই শাক-সবজির চেহারা দেখেই কিনতে চাইবে না। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ধনী দেশে ভোক্তা পর্যায়ের শেষ ধাপেই অপচয়টা বেশি। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে ক্রেতারা বছরে যত খাবার কেনেন তার অর্ধেকই তারা ফেলে দেন। কারণ এসব দেশে খাবারের প্যাকেটের গায়ে কত তারিখের মধ্যে খাবারটি বিক্রি করতে হবে বা খেতে হবে তা লেখা থাকে এবং সেই নিয়ম মানতে গিয়েই এই অপচয়। গবেষক দলের প্রধান ইনস্টিটিউশন অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের ড. টিম ফক্স বলেন, শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো, যাদের অর্থনীতি অনেক বেশি সুসংগঠিত, সেখানে ভোক্তা পর্যায়ে এবং বাজারজাতকরণের শেষ ধাপেই অপচয়টা বেশি। ফলে মাঠ থেকে যে খাদ্য বাজারে এসে পৌঁছাচ্ছে তার ৩০ থেকে ৫০ ভাগ আর খাবার টেবিল পর্যন্ত যাচ্ছে না। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অপচয়টা হচ্ছে অপরপ্রান্তে, ফসলের ক্ষেত থেকে খাদ্যসামগ্রী বাজারে এসে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী পর্যায়ে। ড. টিম ফক্স জানান, উন্নয়নশীল দেশে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কম। ফলে মাঠ থেকে ফসল তোলা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মওজুদ, তারপর সেগুলো বাজারে পরিবহন— এর প্রত্যেকটি পর্যায়েই অপচয় হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেবল ভারতেই বছরে দুই কোটি টনের বেশ গম নষ্ট হয় ঠিকমত গুদামজাত না করার কারণে বা অদক্ষ বিতরণ ব্যবস্থার কারণে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ২০৭৫ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৯৫০ কোটি। এই বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও খাদ্যের দরকার হবে। এ অবস্থায় খাদ্যের এই বিপুল অপচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গবেষকরা । ড. টিম ফক্সের ভাষায়, যেখানে বিশ্বে প্রতিদিন ১০০ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যান, সেখানে এই অপচয় মেনে নেয়া যায় না। শুধুমাত্র অপচয় বন্ধ করেই এই সমস্যার সমাধান করা যেত বলে তিনি মনে করেন। — বিবিসি