আলজেরিয়ায় ৩০ বিদেশি এখনো নিখোঁজ

আলজেরিয়ার গ্যাসক্ষেত্রে জিম্মি উদ্ধারে সেনা অভিযানের পরেও ৩০ জন বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তারা জিম্মি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। সেনা অভিযানের ফলে অন্তত বারো বিদেশি নাগরিকসহ ৩০ জন জিম্মি এবং ১৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে এক মার্কিন, দুই জাপানি, দুই ব্রিটিশ ও এক ফরাসি রয়েছে। জিম্মি উদ্ধারে আলজেরিয়ার সেনা অভিযান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে ওয়াশিংটনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পরিস্থিতি খুবই কঠিন এবং ভয়াবহ। আমরা আলজেরিয়ার সরকারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি। এই ঘটনায় যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সংকট নিরসনে সকলেই একসাথে কাজ করছি। অপহরণের দায় স্বীকার করা আল-কায়েদার সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গ্রুপটি বুধবার আলজেরিয়ার আমেনাসের নিকটবর্তী মরুভূমির একটি গ্যাসক্ষেত্র দখল করে প্রায় সাড়ে ছয়শ’ মানুষকে জিম্মি করে। মালিতে ফরাসি বাহিনীর সামরিক হস্তক্ষেপের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এদের জিম্মি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে জঙ্গিরা। বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার সেনাবাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। শুক্রবার পর্যন্ত যারা নিখোঁজ রয়েছে তাদের মধ্যে ১০ জন জাপানি, আট জন নরওয়েজিয়ান ও কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছে। জিম্মিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আমেরিকান ছিলেন বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে। তবে তাদের সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তারা। জঙ্গি গ্রুপটি দাবি করেছে, সাত বিদেশি নাগরিক এখনো তাদের হাতে জিম্মি রয়েছে। আলজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা এই সংখ্যা ১০ বলে জানান। অন্য কমকর্তারা বলেছেন, সব মিলিয়ে ৩০ জনের মতো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ওই গ্যাসক্ষেত্র থেকে একশ’ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এপিএস জানিয়েছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৫৭৩ জন আলজেরীয় রয়েছে। এদিকে জিম্মি উদ্ধারে আলজেরিয়ার সেনা অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং জাপান বলেছে, ঐ অভিযানের ব্যাপারে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। সেখানে ঠিক কি ঘটেছে, সেটাও পরিষ্কার নয়।