চীনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে যাবে ফিলিপাইন
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৯
দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিবেশি চীনের সাথে মতবিরোধ জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনালে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিপাইন। ফিলিপাইনের সরকার বলছে, সাগরের সীমানা নিয়ে চীন সরকারের সাথে কথা-বার্তা বলে মীমাংসার চেষ্টায় কোন লাভ হয়নি। ফলে তারা এখন জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব আলবার্ট ডেল রোজারিও তার কার্যালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের এখন জাতিসংঘের ট্রাইবুনালে সালিশে যাওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে-শান্তিপূর্ণ আলোচনার মধ্যে দিয়ে এই সমুম্রসীমা নিয়ে বিবাদের মীমাংসা করার যত রকম উপায় ছিল-তার সবগুলোই আমরা ইতিমধ্যে চেষ্টা করেছি। ১৯৯৫ সাল থেকে চীনের সাথে এ ব্যাপারে বহুবার মতবিনিময় হয়েছে। আজ পর্যন্ত কোন সমাধান হয়নি। এখন আমরা আশা করছি যে আরবিট্রেশন-এর মাধ্যমে আমরা একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পারবো।
দক্ষিণ চীন সাগরে একটি চরের মালিকানা নিয়ে সামপ্রতিক সময়ে এই দুই দেশের সম্পর্কে চরম অবনতি হয়েছে। গত বছর স্কারবোরো শোল নামে একটি জায়গায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল— তা থেকেই এর শুরু। ফিলিপাইন ও চীন উভয়েই এ এলাকাটির মালিকানা দাবি করে আসছে। দক্ষিণ চীন সাগরের ইউ-অক্ষরের মতো একটি অঞ্চলকে চীন তাদের নিজেদের সমুদ্রসীমার অন্তর্গত বলে দাবি করে থাকে। কিন্তু ওই জায়গাটি নিয়ে একাধিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান দেশের একই রকম দাবি রয়েছে। সমপ্রতি চীন এই মালিকানার দাবিটি যেন একটু বেশি জোর দিয়েই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, আর এ নিয়ে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের সাথে চীনের সম্পর্কের মধ্যে গুরুতর টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। চীন অবশ্য চায় ব্যাপারটি দ্বিপাক্ষিক স্তরে মীমাংসা করতে। কিন্তু ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনাম এর আগে চীনের সাথে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিবাদকে আসিয়ান জোটের প্ল্যাটফর্মে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু বলা হয় যে চীনের চাপের কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি।