মার্কিন খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে পরিবর্তন প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫৪ সালে চালু করা শান্তির জন্য খাদ্য কর্মসূচি বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। কঠোর বিধিবিধান অনুযায়ী তাদের এই কর্মসূচির খাদ্যের প্রায় সবটুকুই যুক্তরাষ্ট্রের। সেখান থেকে মার্কিন জাহাজে করে বিভিন্ন দেশে খাদ্য প্রেরণের সময় নৌপথে বিভিন্ন সময় জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়। ইউএসএআইডি’র পরিচালক রাজিব শাহ্ বলেন, যারা খাদ্য সংগ্রহ করবে তারা কোথা থেকে সংগ্রহ করবে সে ব্যাপারে তাদের আরো বেশি সুযোগ থাকলে প্রতি বছর সারাবিশ্বের আরো চার লাখ মানুষ এই খাদ্য সহায়তা পেতে পারতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সংস্কারের জন্য আইন পরিবর্তন করতে ২০১৩ সালে বাজেট একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেখানে কর্মসূচির ৪৫ ভাগ খাদ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য দেশ থেকে ক্রয় করার সুযোগ রাখা অথবা সহায়তা প্রাপ্তদেরকে নগদ অর্থ প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকানরা সম্পূর্ণ এর বিপক্ষে। মার্কিন কংগ্রেসে সহায়তা কমানোর ওপর ভোটাভুটি হবে। কারণ অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রতার সময়ে বিদেশি সহায়তা কর্মসূচির জনপ্রিয়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিদেশি সহায়তা কর্মসূচির সংস্কার না হলে যুক্তরাষ্ট্রই থাকবে বিশ্বের বড় খাদ্য সহায়তাকারী দেশ। বিশ্বের অন্যান্য দাতা দেশ নগদ অর্থ দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য করে। তারা ক্ষুধার্ত মানুষের চাহিদা মেটাতে উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন করছে। ত্রাণ সংস্থা কেয়ার কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের দুর্গম স্থানগুলোতে মানুষদের চাহিদা মেটাতে একটি ডাটাবেস তৈরি করেছে। এখানকার দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীকে প্লাস্টিকের কার্ড দেয়া হয়, যেটা দেখতে অনেকটা ক্রেডিট কার্ডের মতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়। কেয়ারে কর্মরত ইজিকিল লেটোরির বলেন, এই কার্ড যাদের সহায়তা প্রয়োজন তাদের নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিত করে থাকে। কারণ খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে শুধু ভুট্টা বা জব প্রদান করা হলে তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। এছাড়া খাদ্য সহায়তা নিয়ে ফেরার পথে আক্রমণের শিকার হতে হয়। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে মার্কিন খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম একটি গণ্ডির মধ্যে রয়ে গেছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রিস ব্যারেট বলেন, এটি অর্থনৈতিক যুক্তির কাছে হার মেনেছে, তাছাড়া এটা কোন দলীয় সমস্যা বা ইস্যু নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের শাসনামলে এই খাদ্য সহায়তা বিল অনেকটা সফলতার মুখ দেখেছিল। ২০০১ সালে তালেবানের পতনের পর বিদেশ থেকে গম আমদানির ফলে আফগান চাষিরা পণ্য উত্পাদন করে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি, ফলে পণ্যের দরপতন হয়েছিল ৮০ ভাগ। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের পরিচালক ডেল মুর উইএসএআইডি’র সংস্কারের বিরোধিতা করে বলেন, বর্তমান খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তাছাড়া এই সনাতন কার্যক্রম হঠাত্ করে বাতিল করা সম্ভব নয়।