চীনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদীদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বন্ধ হচ্ছে

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদীদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হতো চীনে। বছরের পর বছর ধরে চীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি চলে আসছিল। এ নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। চীন সরকার প্রথমে এই অভিযোগ অস্বীকার করে পরে তা স্বীকার করে। তবে সমপ্রতি চীন সরকার এই ‘অমানবিক’ ব্যবস্থাটি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। গত সপ্তাহে চীনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদীদের শরীর থেকে অঙ্গ নিয়ে তা অন্য কারো শরীরে প্রতিস্থাপন বন্ধ করে দিচ্ছে সরকার। আগামী নভেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। হুয়াং জিফু নামে ওই কর্মকর্তা বলেন, একটি নতুন জাতীয় অঙ্গ দান ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে এখন থেকে রোগীদের স্বেচ্ছায় অঙ্গ দানের উপর নির্ভর করতে হবে। চীন প্রতি বছর যে পরিমাণ অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়, তার দুই তৃতীয়াংশই নেয়া হয় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদীদের কাছ থেকে। চীনের নতুন স্থাপিত হেলথ এন্ড প্লানিং কমিশনের তথ্য মতে, গড়ে প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ রোগীর শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। এর মধ্যে মাত্র ১০ হাজার রোগী অঙ্গ সংযোগের সুযোগ পায়। সাজাপ্রাপ্ত কয়েদীদের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে তা বিদেশি ধনী রোগীদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ২০০৬ সালে চীনে যত রোগীর শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয় তার অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গ নেয়া কয়েদীদের কাছ থেকে। ওই কয়েদীরা স্বেচ্ছায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়েছে, না তাদের শরীর থেকে জোর করে নেয়া হয়েছে তা জানা যায়নি। — পলাশ সরকার