ইরানের রয়েছে আঠারো হাজার সেন্ট্রিফিউজ

ইরানের জাতীয় আণবিক শক্তি সংস্থার বিদায়ী প্রধান ফেরেইদুন আব্বাসি-দাভানি জানিয়েছেন, সেদেশে সর্বমোট ১৮ হাজার সেন্ট্রিফিউজ আছে। এর মধ্যে পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে ১০ হাজার সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহূত হচ্ছে। শনিবার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আব্বাসি বলেন, এগুলোর মধ্যে ১৭ হাজার প্রথম প্রজন্মের আইআর-১ সেন্ট্রিফিউজ। আব্বাসি আরো জানান, নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন প্রজন্মের এক হাজার আইআর-২এম সেন্ট্রিফিউজ পরমাণু চুল্লিগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে, সময়মতো তা চালু করা হবে। এ সেন্ট্রিফিউজগুলোতে ইরান পুরোনো মডেলের আইআর-১ সেন্ট্রিফিউজের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দ্রুত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। সমপ্রতি হাসান রুহানি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটির আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবর সালেহিকে নিয়োগ দিয়েছেন। রুহানি ক্ষমতায় এসে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে নতুন আলোচনা আহ্বান করেছেন। তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের পক্ষেও কথা বলেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও এর পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো ইরানকে বরাবরই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধে চাপ দিয়ে আসছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান পরমাণু বোমা তৈরির পথে যেতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তবে ইরান এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলে আসছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ক্যাথারিন অ্যাশ্টন বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠী ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আলোচক নিয়োগ দেয়ার পর পরই বৈঠকের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে অ্যাশ্টন এ কথা জানিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা এবং জামার্নিকে নিয়ে ছয় জাতিগোষ্ঠী গঠিত হয়েছে। অ্যাশ্টন আসন্ন বৈঠকে ছয় জাতিগোষ্ঠীর প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।