ইরাক ও সিরিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা জঙ্গিদের

ইরাক ও সিরিয়ায় ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে সুন্নিপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্ত (আইএসআইএস)। এদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় শহর তিকরিত পুনর্দখল করতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইরাকি সরকারি বাহিনীর লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে রুশ জঙ্গি বিমানের প্রথম চালানটি ইরাকের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে। ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামী রাষ্ট্র বা ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে সুন্নি চরমপন্থী সংগঠন আইএসআইএস। গত রবিবার অনলাইনে প্রচারিত এক অডিও বার্তায় আইএসআইএলে’র প্রধান আবু বকর আল বাগদাদিকে ‘মুসলিম বিশ্বের নেতা’ বা খলিফা হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এই খিলাফতের সীমানা ইরাকের দিয়ালা থেকে সিরিয়ার আলেপ্পো পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলেও জানানো হয়েছে। আইএসআইএসে’র মুখপাত্র আবু মোহাম্মদ আল আদনানি ঐ অডিও বার্তায় বলেন, ইসলামি রাষ্ট্রের শূরার (পরিষদ) সদস্যরা এক বৈঠকে ইরাক ও সিরিয়ায় খিলাফতের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য একটি খলিফা মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ তিনি আরো জানান, আইএসআইএসে’র নাম থেকে ‘ইরাক’ ও ‘লেভান্ত’ শব্দ দুটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কাগজে-কলমে একে কেবল ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবেই উল্লেখ করা হবে। তিনি তাদের ‘খিলাফত’ ঘোষণার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এটি ছিল সকল মুসলমানদের স্বপ্ন এবং সকল জিহাদিদের আকাঙ্ক্ষা।’ খিলাফত প্রতিষ্ঠার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সুন্নি বিদ্রোহীদের এই ‘একটি সত্যিকারের মুসলিম রাষ্ট্রের’ খলিফা হিসেবে বৈধতা লাভ করলো বলেও তিনি জানান। ইরাক ও সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত আইএসআইএস দেশ দুটিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি কিছু সংস্কারেরও ঘোষণা দিয়েছে। কঠোর ইসলামী আইন দ্বারা পরিচালিত খিলাফত প্রতিষ্ঠা— অনেক চারমপন্থী ইসলামি সংগঠন ও জিহাদীর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। তবে হঠাত্ করে আইএসআইএসে’র খিলাফত প্রতিষ্ঠার এই ঘোষণার ফলে ইরাকের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত অন্যান্য সুন্নি যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের বিভেদ তৈরি হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এদিকে, এরই মধ্যে রাশিয়ার জঙ্গি বিমানের প্রথম চালান ইরাকে পৌঁছেছে। ইরাকের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ার ব্যবহূত পাঁচটি সুখোই বিমান তিন-চার দিনের মধ্যেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে। বিমানগুলো শনিবার ইরাকে পৌঁছেছে। এ ধরনের আরো বিমান আসবে বলেও জানিয়েছেন ঐ কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত ৩৪টি এফ-১৬ জঙ্গি বিমান পেতে অনেক দেরি হবে—এটি নিশ্চিত হওয়ার পর ইরাক সরকার রাশিয়া থেকে জঙ্গি বিমান কিনে। জঙ্গি বিমানগুলো দিয়ে অভিযান শুরু হলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মালিকি। ইরাকের সরকারি বাহিনী এ মুহূর্তে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তিকরিত শহর পুনর্দখল করতে আইএসআইএসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এ মাসে তিকরিতসহ ইরাকের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সুন্নি বিদ্রোহীরা।