অদ্বৈত মল্লবর্মণ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন অধ্যাপক শান্তনু কায়সার (মরণোত্তর)। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার ছেলে রাসেল রায়হানের হাতে পুরস্কারের ক্রেস্ট, নগদ অর্থ ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, কবি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক জয়দুল হোসেন, কবি পিয়াস মজিদ ও অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম পাঠান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবি মো. আ. কুদ্দূস।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছোটকাগজ ‘প্লাটফর্ম’ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন হৃদয়।
অদ্বৈত গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য অদ্বৈত মল্লবর্মণ স্মৃতি গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে বিগত দুই বছর যাবত ‘অদ্বৈত মল্লবর্মণ সাহিত্য পুরস্কার’ দেওয়া হচ্ছে।
শান্তনু কায়সার। এই নামেই তার খ্যাতি, পরিচিতি এবং সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠা ঘটে। যদিও তার প্রকৃত নাম ছিল মো. আবদুর রাজ্জাক। প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন ছাড়া প্রকৃত নাম তিনি ব্যবহার করতেন না। স্বভাবে লাজুক, কিছুটা নেপথ্যচারী এবং স্পষ্টভাষী ছিলেন শান্তনু কায়সার। আড্ডায়, আলোচনায় তাকে কখনো মুখর কিংবা সরব হতে দেখা যায়নি। তবে মঞ্চে বক্তৃতাকালে তার ব্যতিক্রমী ভিন্ন দৃষ্টিকোণ, গভীর বিশেস্নষণ, শ্রোতা-দর্শকদের মুগ্ধ এবং বিমোহিত করত। প্রচলিত সমাজের সঙ্গে খাপ না খাওয়া ও ঋজু স্বভাবের এক অনন্যসাধারণ চরিত্র নিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন শান্তনু কায়সার। না, কারো সঙ্গে মেলানো যায় না তাকে। লোভ ও লাভের পথে হাঁটেননি তিনি। সামাজিক অসংগতি, অবক্ষয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের আস্ফালন– এসবের নিন্দা এবং কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি। বলা যায়, তিনি প্রথাগত সমাজের উলটো স্রোতের যাত্রী ছিলেন।
শান্তনু কায়সারের জন্ম ১৯৫০ সালের ৩০ ডিসেম্বর, বর্তমান চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচনমেঘ (সাজনমেঘ) গ্রামে। পিতা মো. সিরাজুল হক। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারী ছিলেন। মা মোসাম্মৎ মাকসুদা খাতুন। শান্তনু কায়সার ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তার মাকে হারান। তার মা ছিলেন আদর্শ-মিতব্যয়ী শিক্ষানুরাগী এক সমত্মানবৎসল মা। শান্তনু কায়সার এক জায়গায় উলেস্নখ করেছেন যে, তার বাবা তার মায়ের জন্য একটু বেশি দাম দিয়ে একটি শাড়ি কিনে দিলে তিনি সেই শাড়ি ফেরত দিয়ে সেই দামে দুটি শাড়ি আনার ব্যবস্থা করেন। এভাবে টাকা বাঁচিয়ে তিনি তার সমত্মানদের লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করেছেন। শান্তনু কায়সার আরো উলেস্নখ করেছেন যে, তার মায়ের কাছেই তাদের সকল ভাইয়ের হাতেখড়ি হয়। ভাইয়েরা ছিলেন চারজন– জহিরুল হক, মুজিবুল হক, শান্তনু কায়সার ও নেসার আহমেদ। (ধানসিঁড়ি, ২০১৩) শান্তনু কায়সারের স্ত্রীর নাম সালেহা বেগম পাখি। দুই পুত্র অদুদ রায়হান (উজ্জ্বল) ও সোহেল রায়হান (রাসেল) এবং কন্যা সাহানা নার্গিস (আলো)। তিনি এ. মালেক ইনস্টিটিউট, লাকসাম, কুমিলস্না থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক করেন ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৮ সাল। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে (অনার্সসহ) স্নাতক (১৯৭১) এবং স্নাতকোত্তর (১৯৭২) ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহপাঠীদের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলেন স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মুস্তাইন বিলস্নাহ। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি অধ্যাপনাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করলেও সাহিত্যই হয়ে ওঠে তার আত্মপ্রকাশ ও আত্মবিকাশের প্রধান ক্ষেত্র।