টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় টানা চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহতের পাশাপাশি একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় অন্তত অর্ধশতাধিক দোকানপাট।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রায় এক মাস আগে বাকি টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, প্রায় এক মাস আগে গোপালপুর উপজেলার গুলিপেচা গ্রাম এবং ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎকুড়া গ্রামের কয়েকজনের মধ্যে একটি দোকানে বাকিতে পণ্য নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খানও ছিলেন।
তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার পর জগৎকুড়া গ্রামের লোকজন গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎকুড়া গ্রামের কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং গরু-বাছুরসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাত ৮টার পর হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের কয়েকশ মানুষ নলিন বাজারে হামলা চালায়। তারা বেছে বেছে জগৎকুড়া গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাত ৯টা পর্যন্ত উভয় পক্ষ নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ওসি মো. সাব্বির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।