রাজাউল্লাহর ছক্কার রেকর্ড, অবশেষে পাকিস্তানের দিন

এজবাস্টন টেস্টের তৃতীয় দিনে ইনিংস হারের শঙ্কা উড়িয়ে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন উপহার দিয়েছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ ইমরান অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার সময়ও পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের স্কোরের চেয়ে দুই রান পিছিয়ে। তবে নবম উইকেটে রাজাউল্লাহ ও মোহাম্মদ আব্বাসের রেকর্ড গড়া ১২১ রানের অবিস্মরণীয় জুটিতে ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

ইমরানের আউটের পর ৭৫তম ওভার থেকে ৯৬তম ওভার পর্যন্ত মাঝের ১২২টি বল ইংল্যান্ডের বোলারদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। মাত্র ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেস্ট অভিষেক হওয়া ২১ বছর বয়সি পেসার রাজাউল্লাহ উইকেটের চারপাশে ঝড় তুলে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম রানই বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করেন। জশ টাংকে মারা ছক্কাতেই কেবল ইনিংস পরাজয় এড়ায়নি পাকিস্তান, বরং লিডও নেওয়া শুরু হয়।

মাত্র ৪৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করে পাকিস্তানের পক্ষে অভিষেকে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন রাজা। তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেওয়া মোহাম্মদ আব্বাসও ৫টি চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন। আব্বাস আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৪৩৯ রান এবং লিড হয় ১১৯ রানের।

পুরো ইনিংসে চার মারার চেয়ে বল সীমানা পার করায় বেশি মনোযোগী ছিলেন রাজা। ইনিংসে মোট ৯টি ছক্কা মেরে তিনি ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদির গড়া টেস্ট অভিষেকে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে ভাগ বসান। এছাড়া রাজা ও আব্বাসের এই জুটিতে মোট ১০টি ছক্কা মারার ঘটনা টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে শেষ তিন ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত জুটিতে সর্বোচ্চ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।

দিন শেষের ঠিক আগের ওভারে ড্যান লরেন্সের বলে স্টাম্পড হয়ে আউট হওয়ার আগে রাজার ব্যাট থেকে আসে ৬৩ বলে ৪ চার ও ৯ ছক্কায় ৮১ রানের একটি অসাধারণ ও স্মরণীয় ইনিংস। সেঞ্চুরি হাতছাড়ার হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়লেও তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ ইনিংসের সুবাদে এজবাস্টনের গ্যালারি ও পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ১৩০ রান তাড়া করতে নামবে ইংল্যান্ড।