প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনেও ব্যাটিংয়ে ব্যাটসম্যানদের রুগ্ণ হাল ছিল। প্রথম দিনে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কার্যত তার কারণেই মুখ রক্ষা হয়েছিল বাংলাদেশ লাল দলের। শনিবার প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ও শেষ দিনেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার ছবিটার পরিবর্তন হয়নি। এদিন আরো বাজে অবস্থা ব্যাটসম্যানদের।
লম্বা সময়ে উইকেটে টিকে থাকতে পারছেন না ব্যাটসম্যানরা। টেস্টের প্রস্তুতিতে ব্যাটিংটা তাই চিন্তার কারণই থেকে যাচ্ছে। গতকাল ব্যাটিং করেছে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সবুজ দল। মিরপুর স্টেডিয়ামে পুরো দল ব্যাট করতে পেরেছে ৫২.৩ ওভার। তবে স্কোরবোর্ডে ১২৫ রান তুলতেই সবাই আউট হয়ে গেছেন মুশফিকরা। এর আগে ম্যাচের প্রথম দিনে ৮৪.১ ওভার ব্যাটিং করে ২৬৮ রানে অলআউট হয়েছিল সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লাল দল। আর নিছক প্রস্তুতির কারণে খেলা দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটাও ড্রয়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
শনিবার সবুজ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৬২ বল খেলেছেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান এসেছে মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে। ৭৩ বল খেলেছেন মুমিনুল। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বলেছেন, রান কত করেছি জানি না। উইকেটে থাকার চেষ্টা করেছি। কিছুক্ষণ ব্যাটিং করতে পেরেছি।
ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলাম ও সৌম্য সরকার রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেছেন। দ্বিতীয় দফা সাতে ব্যাটিং করতে নামেন সাদমান। এবার অবশ্য রান আহামরি না করলেও ৬২টা বল খেলেছেন। তিনি রান করেছেন ১৩। অধিনায়ক মুশফিক ৬, আরিফুল হক ৩, ফরহাদ রেজা ৫, তাইজুল ইসলাম ০, তাসকিন আহমেদ ৫ রান করেছেন।
আরো পড়ুন: বখাটের বাবা বললেন আর পারছি না ওকে শাস্তি দিন
সামগ্রিক আবহ মিলে প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে শুধু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পর বোলিংয়েও হাত ঘুরিয়ে সফলতা পেয়েছেন তিনি। গতকাল ৭.৩ ওভার বোলিং করে ৪ মেডেনসহ ৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন এই অফস্পিনার। টেস্টে তাই মাহমুদউল্লাহকে ব্যবহারের কথা ভাবতেই পারেন অধিনায়ক সাকিব। মাহমুদউল্লাহও বুঝিয়ে দিলেন, বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত তিনি।
বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে বয়ে আনা চোটের কারণে বিশ্বকাপে বোলিং করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ, বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরেও বোলিংয়ে দেখা যায়নি তাকে। তবে গতকিছু দিন অনুশীলনে বোলিং করেছেন। এবার প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং করলেন মাহমুদউল্লাহ।
তার করা প্রথম বলটা বেশ লাফিয়ে উঠেছিল। সামাল দিতে না পেরে ফরহাদ রেজা ক্যাচ দিয়েছেন সিলি পয়েন্টে। পরে মাহমুদউল্লাহর বলে কাট করতে গিয়ে মিস করেছেন তাইজুল। ফলাফল বোল্ড হয়ে যান তাইজুল। সাদমান ছিলেন মাহমুদউল্লাহর তৃতীয় শিকার। দ্বিতীয় দফায় নেমে অনেকক্ষণ ব্যাটিং করা সাদমান ধৈর্য হারান অপরপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতন দেখে। তুলে মারতে গিয়ে মিড অনে সাদমানের তোলা ক্যাচটা বেশ কিছুটা দৌড়ে গিয়ে তালুবন্দী করেছেন খোদ বোলার মাহমুদউল্লাহই।
দিনের শুরুতে মেহেদী হাসান ও মুস্তাফিজ ওপেনারদের বিচ্ছিন্ন করেন। টেস্ট দলে না থাকা মুস্তাফিজ এক ওভার বোলিং করে সৌম্যকে আউট করেছেন। তারপর আবু জায়েদ রাহী নিয়েছেন টানা তিন উইকেট। মুমিনুল, মুশফিক, মোসাদ্দেককে ফেরান রাহী। ১০ ওভার বোলিং করে উইকেটশূন্য ছিলেন সাকিব। এছাড়া লাল দলের হয়ে লেগ স্পিনার মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি ও দীর্ঘকায় তরুণ ডানহাতি পেসার ইফরান আহমেদ একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ