তরুণরাই মেলার প্রাণ

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ০৭:১৪

মেলা জমতে সময় নেয়। ধীরে ধীরে সব স্টলে নতুন বই আসে, পাঠকরাও লিস্ট ধরে বই কেনা শুরু করে। মূলত বইমেলা প্রথম কয়েকটা দিন মেলা জমিয়ে তোলে তরুণরা। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বইমেলা প্রাঙ্গণ। 

বেলা গড়াতেই বইমেলায় ভিড় জমে ওঠে তরুণ তরুণীদের, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। দেখা যায়, দল বেঁধে পুরো বইমেলা টই টই করে বেড়াচ্ছে। তাদের কথা, হাসির কলকাকলি মেলার স্তব্ধতা ভেঙে দেয়। গতকালও দেখা গেছে দল বেঁধে তরুণ-তরুণীদের ভিড়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেকটা অংশ এবার মেলা চত্বরে নিয়ে নেওয়ায় মেলা হয়ে উঠেছে আরো ছিমছাম। ১৫ লাখ বর্গফুটের বিশাল বদলে যাওয়া বইমেলার শান্ত স্নিগ্ধ উদ্যান আমন্ত্রণ জানাচ্ছে প্রাণের উত্সবে মেতে উঠতে। মেলার পরিসর এতটাই বেড়েছে যে, ভিড় জমতে পারছে না। কিন্তু পাঠকের আনাগোনা কম নেই। মেলার শুরুতে তো আর মেলা শেষের সেই উপচেপড়া ভিড় থাকবে না। কিন্তু মানুষের আনাগোনা দোকানে দোকানে কেনাবেচা কিন্তু থেমে নেই। টুকটাক বিক্রি হচ্ছে ভালোই।

স্টল বিন্যাস নিয়ে ক্ষোভ ক্ষুদ্র প্রকাশকদের

এবার বিশাল পরিসরের মেলার বিন্যাসে প্যাভিলিয়নগুলো মূল কেন্দ্রে রাখা হয়েছে আর সাধারণ স্টলগুলো মেলা প্রাঙ্গণের মূলকেন্দ্র থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন তুলনামূলক ছোট প্রকাশকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকাশক বলেন, এবারের মেলার বিন্যাস নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। মূল কেন্দ্রবিন্দুটা সমস্ত প্যাভিলিয়নের দখলে। এটা বৈষম্যমূলক আচরণ। আমরা এরকম মেলা চাই না।

এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির পরিচালক ও বইমেলার সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, প্রত্যেকটি প্রবেশপথে সাধারণ স্টলগুলো রাখা হয়েছে। যাতে মানুষ মেলায় প্রবেশ করে সাধারণ স্টলগুলো আগে ভিজিট করে তারপর প্যাভিলিয়নে যায়। আবার যখন বের হবে, তখনো ?কিন্তু ক্রেতারা ঐ সাধারণ স্টলগুলো অতিক্রম করেই বের হবে। সুতরাং এদিক থেকে চিন্তা করলে সাধারণ স্টলগুলো ভালো অবস্থানে আছে।

মেলার তৃতীয় দিনেও শেষ হয়নি স্টল-প্যাভিলিয়নের নির্মাণকাজ

এদিকে, মেলা প্রাঙ্গণে এখনো স্টল নির্মাণ শেষ করেননি অনেক প্রকাশক। এমনকি প্রকাশক সমিতির নেতাদের স্টলগুলো এখনো নির্মাণ শেষ হয়নি। বইমেলার মধ্যে স্টল নির্মাণ শ্রমিকদের আনাগোনা মেলার পরিবেশকে নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ জানালেন মেলায় আসা পাঠকরা।

এ বিষয়ে অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম জানান, এবার বাংলা একাডেমি থেকে স্টল/প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পেতে সময় লেগেছে বেশি, ফলে স্টল নির্মাণে সময় কম পাওয়া গেছে।

নতুন বই

বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবারের বইমেলায় নতুন বই এসেছে ১০৪টি। তার মধ্যে গল্প ১০টি, উপন্যাস ১৯টি, প্রবন্ধ সাতটি, কবিতা ৩১টি, গবেষণা তিনটি, শিশুসাহিত্য একটি, জীবনী পাঁচটি, রচনাবলি তিনটি, মুক্তিযুদ্ধ দুইটি, বিজ্ঞান তিনটি, ভ্রমণ চারটি, ইতিহাস তিনটি, রাজনীতি দুইটি, বঙ্গবন্ধু দুইটি, ধর্মীয় দুইটি, অনুবাদ দুইটি, সায়েন্স ফিকশন একটি এবং অন্যান্য চারটি। এদের মধ্যে আগামী প্রকাশনী থেকে আবদুল গাফফার চৌধুরীর রাজনৈতিক কলাম বিষয়ক বই ‘হাসিনা ও রেহানা অ-রূপকথার দুই বোন’, হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘দিনলিপি ২০২০’, বিমল গুহের কবিতার বই ‘শেখ মুজিবের তর্জনী’, কথাপ্রকাশ থেকে আহমদ রফিকের স্মৃতিকথা ‘স্মরণীয় বরণীয় আপন বৈশিষ্ট্যে’, হাসান আজিজুল হকের কবিতার বই ‘সুগন্ধি সমুদ্র পার হয়ে’, অন্যপ্রকাশ থেকে শাইখ সিরাজের উপন্যাস ‘করোনাকালে বহতা জীবন’, সাদাত হোসাইনের উপন্যাস ‘তোমার নামে সন্ধ্যা নামে’, শিশু গ্রন্থ কুটির থেকে ঝর্ণাদাশ পুরকায়স্থের শিশুতোষ গল্প ‘জাদুকর ও আইসক্রীমের ঘর’, সময় প্রকাশনী থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস ‘যেটুকু টুনটুনি সেটুকু ছোটাচ্চু’, অনন্যা থেকে পিয়াস মজিদের স্মৃতিকথা ‘হূদয় গ্যালারী’, তাম্র্রলিপি থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ‘বনবালিকা’, আহমদ পাবলিশিং হাউজ থেকে ড. আনু মাহমুদের প্রবন্ধ ‘বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের স ষ্টা’, জোনাকী প্রকাশনী থেকে অনীশ দাস অপুর অনুবাদগ্রন্থ ‘প্রাইভেট লাইফ অব দ্য মুঘল অব ইন্ডিয়া’, ঐতিহ্য থেকে আলতাফ পারভেজের কৃষি গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ ‘ধান চাষের প্রতিবেদন’ উল্লেখযোগ্য।

মেলামঞ্চের অনুষ্ঠান 

বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আবুল মোমেন লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক সাহেদ মন্তাজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আবুল কাশেম এবং ফওজুল আজিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খুরশীদা বেগম লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আবদুস সেলিম, শাহেদ কায়েস এবং আঁখি হক।

আজকের অনুষ্ঠান 

আজ রবিবার (২১ মার্চ) বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী :স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন কল্যাণী ঘোষ, বুলবুল মহলানবীশ এবং আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রামেন্দু মজুমদার।

ইত্তেফাক/.এসজেড