ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নানা প্রচেষ্টা

ইভিএমে ভোটের হার নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসি
ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নানা প্রচেষ্টা
ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নানা প্রচেষ্টা।ছবি: ইত্তেফাক

আসন্ন দুই সিটির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র-গুলোতে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইভিএমে অনুষ্ঠিত বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তিতে রয়েছে কমিশন।

উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোটকে কেন্দ্র করে গত ২২ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভোটারদের নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। ঐ সভায় বলা হয়, ব্যালটে জাতীয় নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়লেও ইভিএমে ভোট পড়ার হার খুবই কম। ইভিএমে ভোট কম পড়ার কারণ কি তা খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় অনাস্থার কারণে ভোটাররা খানিকটা কেন্দ্রবিমুখ। তাছাড়া এই যন্ত্রটি ভোটারদের আস্থা টানতে পারেনি। ভোটের বুথ থেকে অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ভোটারদের ফিরে আসার উদাহরণ আছে। আবার ব্যালটের মতো ইভিএমে ভোট দিয়ে ভোটাররা সন্তুষ্ট হতে পারে না। সিল মারার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে যন্ত্রে অভ্যস্ত হতে চাইছে না অনেকে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও প্রচারে ঘাটতি রয়েছে।

সর্বশেষ ইভিএমে অনুষ্ঠিত রংপুর-৩ এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে দেখা গেছে, ভোট প্রদানের হার খুবই কম। গত বছরের ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রংপুর-৩ আসনে ভোট পড়ে ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ। অথচ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইভিএমে অনুষ্ঠিত এই আসনে ভোট পড়েছিল ৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোট পড়ে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। একইভাবে গত ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরের হাইমচর পৌরসভার নির্বাচনে ভোট পড়ে ৪০ শতাংশ। তবে ইসিকে আশান্বিত করেছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার নির্বাচন। ঐ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। ব্যালটের সনাতন পদ্ধতিতে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ। আর ইভিএমের ছয় আসনে ভোটের হার মাত্র ৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

আরো পড়ুন: করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ইভিএমে ভোটার বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসাবে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেম ও আবদুল বাতেন জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটির যে নির্বাচনে হবে সেখানে ইভিএমে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বাড়বে। এর ওপর প্রশিক্ষণ, প্রদর্শন এবং মক ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানে উদ্বুব্ধ করা হচ্ছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার প্রার্থীদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। ভোটের পরিবেশকে উত্সবমুখর করা হবে।

সুষ্ঠু ভোটে নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকলেও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। জাতীয় প্রেসক্লাবে পর্যবেক্ষকদের এক কর্মশালায় অংশ নিয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, বর্তমানে যে ইভিএম পদ্ধতি চালু হয়েছে, প্রযুক্তির আধুনিকায়নের এই যুগে তা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইভিএম নিয়ে যা শোনা যাচ্ছে তা হলো, একজন ভোটারের ভেরিফিকেশন হওয়ার পর অন্য কেউ বাটন চেপে তার খেয়ালমতো ভোট দেওয়ার আশঙ্কা। বুথে অবাঞ্ছিত কেউ আছে কি-না পর্যবেক্ষকদের এই দিকে নজর রাখতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইভিএমে কারসাজির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আপনি কাকে ভোট দিয়েছেন তা নিশ্চিত না। কারণ আগে থেকে তা সনাক্তের ব্যবস্থা করা হয়নি। আপনি এক মার্কায় ভোট দিলেন, অন্য একটি মার্কায় তা কাউন্ট হতে পারে। ভারতের ইভিএমের তুলনায় বাংলাদেশের ইভিএম ১১ গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে। অথচ ভারতে প্রিন্টের ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের ইভিএমে নাই। ফলে ইভিএমের প্রতি ভোটারদের আস্থা তৈরি হয়নি।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত