খালের পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ০২:৩৮

আশকোনা এলাকায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে বিমানবন্দরের কাওলা এলাকায় ২৮ দিনে খাল খনন করেছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু দুই মাস না যেতেই সেই খালের পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকায়। কালো ও নোংরা সেই পানি থেকে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে অস্বস্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী।

বৃষ্টি হলেই পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে আশকোনা, হাজিক্যাম্প, মোল্লারটেক, প্রেমবাগান, তালতলা, দক্ষিণখান, আশিয়ান সিটি, কাওলা বাজার ও বনরূপা হাউজিং এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খালের খননকাজ করে সিটি করপোরেশন। তাদের সহায়তা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খালটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার খালের খননকাজ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাকি ১৭০ মিটার খাল খনন করেছে ডিএনসিসি। এতে ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ৩০ মে খালের খননকাজ শুরু করা হয়েছিল। যা গত ২৭ জুন প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম উদ্বোধন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডিএনসিসির খালটি খিলক্ষেতের উত্তরপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন বনরূপা খালের সঙ্গে মিশেছে। ডিএনসিসির খাল ছাড়াও খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এই দুই এলাকার পানি ও পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনের নালা ঐ জায়গাটিতে এসে যুক্ত হয়েছে। সংযোগস্থল থেকে পানি বনরূপা খালে নেমে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে গিয়ে খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকার ময়লা পানি ডিএনসিসির খালের দিকে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। খালের শুরুতে হজ ক্যাম্পের পেছনের অংশে কচুরিপানায় ঢেকে গেছে খাল। কাওলা থেকে বনরূপা পর্যন্ত পুরো খালে কুচকুচে কালো রঙের পানি দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের জন্য খুব দ্রুত এই খালটি খনন করা হয়। অথচ খালটি দিয়ে ঠিকমতো পানি নামতে পারছে না। খালের মধ্যেই জমে থাকছে পানি। দীর্ঘদিন জমে থেকে পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম বলেন, খালটি সমানভাবে কাটা হয়নি। যার কারণে পানি প্রবাহে সমস্যা হওয়ায় পানি জমে যাচ্ছে। আর পচা পানির দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অস্বস্তিতে রয়েছে। এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম বলেন, কাওলার খালটি যে খালে গিয়ে মিশেছে সেই বনরূপা খাল (এডি-৮) খনন প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। বনরূপা খালের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে তাদের খালের পানি নিষ্কাশন ও প্রবাহে কোনো সমস্যা হবে না। খালটিতে শিল্প-কারখানা ও পয়োকার্যের বর্জ্য এসে মিশছে জানিয়ে তিনি বলেন, খালটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খালের মাধ্যমে যে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে সেই পানিই পচা ছিল। খাল দিয়ে সেই পচা পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে খালটির রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এসআই