ডিএনসিসি এলাকার সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে রাখা সামগ্রী উচ্ছেদ ও নিলামে বিক্রি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গতকাল সোমবার ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হয়। মেয়র আতিকুল ইসলাম গুলশান ৮৬, ৮৭, ৬৭ নম্বর রোড এবং বনানী ১৫ নম্বর রোড পরিদর্শন করে ফুটপাত ও সড়কের ওপর রড, ইট ইত্যাদি দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে ডিএনসিসির মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকারীদের জরিমানা করা হয় এবং নির্মাণসামগ্রী তাত্ক্ষণিক নিলামে বিক্রি করা হয়। ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে মোট ৩২টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ টাকা এবং জরিমানা বাবদ ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া ১ হাজার ২০০টি অবৈধ স্থাপনা, টং দোকান, শেড ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়।
এ সময় ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন, এই শহরের ফুটপাতে কোনো ধরনের নির্মাণসামগ্রী বা অন্য কোনো সামগ্রী রেখে ব্যবসা করতে পারবেন না। ঢাকা শহর আমাদের সকলের, আমাদের আদরের। এই ঢাকা শহরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। ঢাকা শহরকে যত্রতত্রভাবে শেষ করে ফেলবেন, এটি হতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমি গত আশুরার দিন সকাল বেলা বিভিন্ন এলাকায় যাই। তখন দেখেছি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ইট, বালু, রডসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রী রাস্তায়, ফুটপাতে রেখে দিয়েছে। তখন আমরা বলেছিলাম, ৭ তারিখ থেকে ১০টি অঞ্চলে একযোগে সারা দিন এই অভিযান চলবে। আপনারা নিজেরা দেখেন বড় বড় অট্টালিকা করছে, অট্টালিকা হবে ভালো কথা, কিন্তু আমাদের সিটি করপোরেশনের ফুটপাতের মধ্যে কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে, আইনকে কোনো ধরনের সম্মান না জানিয়ে তারা নির্মাণসামগ্রী রেখে দিচ্ছে। এজন্য আমাদের ফুটপাত ভেঙে যাচ্ছে। আমরা সবাই বলেছি, তার পরও তারা আইনকে তোয়াক্কা করছে না। তাই আমি আমার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছি, যেখানে যে অবস্থায় ফুটপাত ও সড়কে নির্মাণসামগ্রী পাওয়া যাবে, আইন অনুযায়ী এগুলো নিলাম দিয়ে দেওয়া হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিলাম শুরু হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা ব্যবসা করবেন, ব্যবসা করুন। কিন্তু কেন ফুটপাত ও রাস্তার মধ্যে নির্মাণসামগ্রী রাখবেন? এগুলো রাখার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আমি হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, এই অভিযান প্রতি সপ্তাহে একদিন পরিচালিত হবে।’
অবৈধ বিলবোর্ড সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘আমি আরেকটা বার্তা দিতে চাইছি আপনাদের মাধ্যমে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্রভাবে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ডে ভরে গেছে। সাইনবোর্ডের জন্য কেউ কোনো পারমিশন নিচ্ছে না। আমি বিনয়ের সঙ্গে আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা নির্ধারিত ট্যাক্স সিটি করপোরেশনে দিয়ে তারপরে সাইনবোর্ড লাগাতে পারেন। যে কোনো ধরনের সাইনবোর্ড, বিলবোর্ডে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে ট্যাক্স দিয়ে তারপরে লাগাতে পারবেন। তা না হলে আগামী ১৪ তারিখ হতে যত ধরনের সাইনবোর্ড আছে, সেই সাইনবোর্ডও উচ্ছেদ শুরু হবে। অতিরিক্ত সাইনবোর্ড লাগিয়ে অনেকে ঢাকা শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছেন, এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন। আমাদের অভিযান চলবেই চলবে। আমি আবারও বলছি, আমাদের সড়ক ও ফুটপাতে যত অবৈধ নির্মাণসামগ্রী বা অন্য কোনো সামগ্রী থাকবে তা নিলাম হয়ে যাবে।’
ইত্তেফাক/এসআই

