দাফনের সময় কেঁদে উঠলো নবজাতক

দাফনের সময় কেঁদে উঠলো নবজাতক
প্রতীকি ছবি

ডাক্তার মৃত ঘোষণা করলেন। আর দাফনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে নবজাতক কেঁদে উঠলেন। ঘটনাটি শুক্রবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। কবরস্থান থেকে ফিরিয়ে এনে আবার ঢাকা মেডিক্যালের নবজাতক বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, নবজাতকটি জীবিত আছে। সে ভালো আছে ও তার চিকিৎসা চলছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের সন্তান সম্ভাবনা গৃহবধূ শাহিনুরকে তার স্বামী ইয়াসিন মোল্লা গত তিনদিন আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এসে ১১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওই ওয়ার্ডে শাহিনুর শুক্রবার ভোরের দিকে স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

ইয়াসিন মোল্লা জানান, ছয় মাস ১৬ দিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শাহিনুর বেগমকে গত বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন। তিনি পেশায় বাসচালক। ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করার পর ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা তার স্ত্রীকে দেখেন এবং জানান তার প্রেশার অনেক হাই। বাচ্চাটি ডেলিভারি না করালে তার প্রেশার কমবে না।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের কথায় সম্মতি দেওয়ার পর বুধবার রাতেই তাকে লেবার রুমে নিয়ে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। ডেলিভারি না হওয়ায় তাকে ১১০ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়। সেখানে দুদিন চেষ্টার পর শুক্রবার ভোরে তার আবার ব্যথা শুরু হয়। ভোর পৌনে ৫টার দিকে শাহিনুরের এক মেয়ে বাচ্চা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা জানান, বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় হয়েছে। এরপর হাসপাতালের আয়া মৃত বাচ্চাটিকে প্যাকেট করে বেডের নিচে রেখে দেয় এবং কোথাও নিয়ে দাফন করার জন্য বলে।

আরো পড়ুন : মাত্র ৫ মিনিটেই করোনা টেস্টের ফল

ইয়াছিন মোল্লা বলেন, সকাল ৮টার দিকে তিনি মৃত নবজাতকটিকে আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে দেড় হাজার টাকা সরকারি ফি চায়। দিতে না পারায় তাদের পরামর্শে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচশত টাকা ফি ও কিছু বকশিস দেওয়ার পর মৃত নবজাতকটির জন্য কবর খোঁড়া শুরু হয়। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে তখন কান্নাকাটি শব্দ শুনতে পান। তিনি ও অন্য লোকজন আশপাশে কোথাও কিছু না পেয়ে পরে নবজাতকটির দিকে খেয়াল করেন। এরপর প্যাকেট খুলে দেখেন বাচ্চাটি নড়াচড়া করছে ও কান্নাকাটি করছে। এরপরই তাকে দ্রুত আবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং তাকে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে। পরে নবজাতক বিভাগে ভর্তি করেন।

ইয়াসিন মোল্লা বলেন, এটি তার দ্বিতীয় বাচ্চা। এর আগে তার দশ বছরের আরেকটি মেয়ে রয়েছে। তারা তুরাগ ধউর নিসাতনগর এলাকায় থাকেন । তার স্ত্রী গৃহিণী ও তিনি বিআরটিসি বাস চালক। চিকিৎসকদের এমন ভুল সিদ্ধান্ত ও পরামর্শের তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অপরদিকে হাসপাতালটির গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিলুফা সুলতানা জানিয়েছেন, তিনি দুই দিনের ছুটিতে রয়েছে। নবজাতকটির বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক আমাকে জানিয়েছেন। আমি আমার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জকে নবজাতকটি বিষয়ে জানিয়েছি। তারা সব কিছু দেখছেন।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত