দখলদার ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ঢাকা উদ্যানবাসী

সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ৭৫টি মামলা * ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে
দখলদার ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ঢাকা উদ্যানবাসী
ঢাকা উদ্যান এলাকা। ছবি : সংগৃহীত

জমি দখল, বাড়ি দখল, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা ও বিআইডব্লিউটিএর জমি দখলের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানা ও আদালতে ৭৫টি মামলা ও জিডি দায়ের রয়েছে। এর মধ্যে তদন্ত করে পুলিশ অন্তত পাঁচটি মামলায় চার্জশিট প্রদান করেছে। একটি মামলায় চার/পাঁচ বছর আগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আদালত থেকে জামিন নিয়ে এখন ঐ ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ বলছে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আলোচিত এই ব্যক্তির নাম মনিরুজ্জামান মনির (৪৫)। পুলিশ তাকে কালা মনির নামেই চেনে। মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় গত ১২ বছর ধরে কালা মনির অন্তত ৩ লাখ বাসিন্দাকে জিম্মি করে রেখেছে। ভুক্তভোগীরা পুলিশের আইজি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি।

এ ব্যাপারে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুনুর রশিদ বলেন, এই মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ একবার তাকে গ্রেফতারও করেছিল। আমরা তাকে খুঁজছি, পাওয়া গেলে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে।

পুলিশ জানায়, তুরাগ নদের জমি দখল করে অন্তত ২০/৩০টি প্লট বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করেন মনিরুজ্জামান মনির ওরফে কালা মনির। ঢাকা উদ্যান, চন্দ্রিমা হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, চাঁদ উদ্যান, একতা হাউজিং, রাজধানী হাউজিং, নবীনগর হাউজিং, গ্রিন সিটিসহ ১০টি হাউজিং প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্লট দখলের অভিযোগ রয়েছে কালা মনিরের বিরুদ্ধে। এসব এলাকায় কেউ নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করতে হলে কালা মনিরকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা দিতে না চাইলে মনিরের ক্যাডার বাহিনী নির্মাণসামগ্রী লুট করে। নির্মাণসামগ্রী লুট করার অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মনিরের বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা আছে। এসব ঘটনায় শতাধিক জিডিও রয়েছে।

কাজী আশরাফ আল কাদের নামের এক ভুক্তভোগী জানান, বছরপাঁচেক আগে ঢাকা উদ্যানের ডি ব্লকের সাড়ে ৬ কাঠার ৫৪ নম্বর প্লটে তিনি দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। কালা মনির তার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় জিডিও করেন। পরে চাঁদা না দিলে মনির জাল দলিল তৈরি করে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তার বাড়ি দখল করে নেয়। বর্তমানে ঐ বাড়িতে কালা মনিরের আত্মীয়স্বজন ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। এ ব্যাপারে তিনি আদালতে মামলা করেও কোনো সুফল পাননি।

আরেক ভুক্তভোগী মোস্তফা নাজিম বলেন, ঢাকা উদ্যানের সি-ব্লকে ১ নম্বর সড়কের একটি প্লটে চলতি বছরে বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে মনির তার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে গত ২০ আগস্ট মনিরের ক্যাডার বাহিনীর তার বাড়ি নির্মাণসামগ্রী লুট করে।

মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডের আজহার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বরকত উল্লাহ অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে মনিরের ক্যাডার বাহিনী নির্মাণসামগ্রী লুট করে। এ ঘটনায় তিনি মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ এ মামলায় কালা মনিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করে। মনির এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।

এ ব্যাপারে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি এলাকায় কোনো দখলবাজি বা চাঁদাবাজি করি না। কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। একটি চক্র এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত