ক্যানভাসে উঠে এলো করোনাকালের জীবনযুদ্ধ

ক্যানভাসে উঠে এলো করোনাকালের জীবনযুদ্ধ
প্রতীকী কফিনের গায়ে করোনাকালে হারিয়ে যাওয়া মানুষের মুখ। ছবিটি গতকাল শিল্পকলার     —ইত্তেফাক

লাশ নেওয়ার খাটিয়ায় অনেক পরিচিত মুখের ছবি। শিল্পী অভিজিত্ চৌধুরীর ইনস্টলেশন আর্টে ফুটে উঠেছে করোনাকালের হারিয়ে যাওয়া মানুষের মুখ।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনসহ আরো অনেকেইকরোনার থাবা তাদের জীবন কেড়ে নিয়েছে। তাদের মুখ আমাদের করোনার ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দেয়। একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী জামাল আহমেদের ক্যানভাসে উঠে এসেছে করোনাকালের বাস্তবতার চিত্র। করোনা আক্রান্ত পিতাকে কাচের দেওয়ালের পাশ থেকে দেখছে তার সন্তান। কিন্তু বাবাকে ছুঁতে পারছে না। আবার শিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী এই ভয়াবহতার মধ্যেই জীবনকে ভালোবাসার কথা বলেন। তিনি মনে করিয়ে দেনজীবনে অন্ধকার আসবেই তাকে মোকাবিলা করে বেঁচে থাকার নামই জীবন।

এমনি শত শত করোনাকালের শিল্পকর্ম নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হয়েছেআর্ট এগেইনস্ট করোনাশীর্ষক মাসব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শনী প্রধান অতিথি থেকে উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী . কে আব্দুল মোমেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতিসচিব মো. বদরুল আরেফীন এবং বরেণ্য চিত্রশিল্পী জামাল আহমেদ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সচিব মো. নওসাদ হোসেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী . কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাঙালি বীরের জাতি। করোনার এই দুর্যোগে প্রমাণ করেছি আমরাবিজয়ীজাতি। মহামারি প্রতিরোধসহ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছি। যা সারা বিশ্বের কাছেই দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, শিল্পকর্মের মাধ্যমে আমাদের শিল্পীরা মহামারির বিরুদ্ধে লড়ছেন। তাদের ছবি আমাদের ভাবায়, প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করে। তাদের ক্যানভাসে উঠে এসেছে আমাদের নানা পর্যায়ের লড়াইয়ের চিত্র। পৃথিবীর আর কোনো দেশের শিল্পীরাই করোনার বিরুদ্ধে এভাবে সারা দেননি যেভাবে বাংলাদেশের শিল্পীরা দিয়েছেন।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার নম্বর গ্যালারিতে শুরু হওয়াআর্ট এগেইনস্ট করোনাশীর্ষক প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে তিন শতাধিক চিত্রকর্ম। নবীন, প্রবীণ প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন। স্থাপনা শিল্পগুলো করেছেন অভিজিত্ চৌধুরী। প্রদর্শনীকে সামনে রেখে গত জুলাই মাসে ১৩ দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

মাসব্যাপী প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবার জন্য উন্মুক্ত।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত