ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে রাজধানীর সড়কে। সিটিংয়ের নামে চলা পরিবহনগুলো প্রতিনিয়ত যাত্রীদের ঠকাচ্ছে। ওয়েবিলের নামে অতিরিক্ত ভাড়া তুলছে ঠিকই, অথচ সার্ভিস দিচ্ছে লোকাল বাসের মতোই। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পরিবহন সংকটের কারণে প্রতারিত হলেও এভাবে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন রাজধানীবাসী।
রাজধানীবাসী বলছেন, ওয়েবিলের নামে সিটিং সার্ভিস পরিবহনগুলোতে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন তারা। যেসব স্থানে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে তার ১০০ থেকে ২০০ মিটার আগে ওয়েবিল স্বাক্ষরের স্থান নির্ধারণ করা রয়েছে। এতে স্বল্প দূরত্বের জন্য বাড়তি ভাড়া গুণতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। এভাবে পরিবহনগুলো সিটিংয়ের নামে যাত্রীদের সাথে ‘চিটিং’ করছে।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, সিটিংয়ের নামে চলা পরিবহনগুলো রাস্তার নির্দিষ্ট পয়েন্টে যাত্রী হিসেব করে কোম্পানির লোক ওয়েবিলে স্বাক্ষর করে। একটি ওয়েবিল থেকে আরেকটি ওয়েবিল পর্যন্ত ভাড়া ঠিক করা হয়। এভাবে দিন শেষে যাত্রী হিসেব করে পরিবহন মালিকরা শ্রমিকদের কাছ থেকে ভাড়ার টাকা বুঝে নেন।
তবে ওয়েবিলের নিয়ম মানছে না পরিবহন শ্রমিকরা। কারণ ওয়েবিলের নিয়ম অনুযায়ী, সিট ব্যতীত অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের নিয়ম না থাকলেও রাস্তায় হচ্ছে উল্টো। যাত্রীদের কাছ থেকে সিটিংয়ের নামে বেশি ভাড়া আদায় করা হলেও সেই সার্ভিস পাচ্ছেন না যাত্রীরা। লোকালের মতোই যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করানো এবং দাঁড় করিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে সিটিং পরিবহনগুলোও।
আরও পড়ুন: গুঞ্জনে কান দিতে না করলেন প্রিয়াঙ্কা!
আবার যেখানে যাত্রীরা কম নামেন, সেখানে ওয়েবিলে স্বাক্ষর করার জন্য কোম্পানির লোক দাঁড়ানো থাকে। জনবহুল জায়গাগুলোতে ওয়েবিলে স্বাক্ষর করা হয় না। ফলে জনবহুল স্থানগুলোতে যেতে পরের ওয়েবিলের ভাড়া দিতে হয়।
রাজধানীর ফার্মগেট, বাংলামোটর ঘুরে দেখা যায়, মিরপুর, মোহাম্মদপুর বা মহাখালী হয়ে আসা সিটিং বাসগুলোর বেশির ভাগ যাত্রীই ফার্মগেটে নামেন। তবে কোনো যাত্রী বাংলামোটর, শাহবাগ নামতে চাইলে তাকে গুলিস্তান পর্যন্ত ভাড়া গুণতে হয়। কারণ বাংলামোটরের আগেই সোনারগাঁও হোটেলের সামনে কোম্পানিগুলো যাত্রী হিসেব করতে লোক দ্বারা ওয়েবিলে স্বাক্ষর করায়।
আবার রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত ওয়েবিলের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা। এর মধ্যে যেকোনো স্থানে উঠা-নামার জন্য ভাড়া ১০ টাকা।
আর কেউ বাংলামোটর বা শাহবাগ গেলে তাকে ফুলবাড়ি পর্যন্ত ২৫ টাকা ভাড়া গুণতে হয়। অন্যদিকে মহাখালী হয়ে আসা বাসগুলোর ওয়েবিল বসানো হয়েছে সাত রাস্তার আগে। অর্থাৎ যারা সাতরাস্তা বা মগবাজার যাবেন, তাদের ভাড়া দিতে হয় গুলিস্তান পর্যন্ত। একই অবস্থা প্রায় সবগুলো রুটে।
পরিবহন শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চালক, হেলপার, কন্ডাক্টর কিংবা ওয়েবিলে স্বাক্ষর করা লাইনম্যান কারোই নির্দিষ্ট বেতন দেন না পরিবহন মালিকরা। ওয়েবিলের স্বাক্ষর হিসেব করে ভাড়ার টাকা বুঝে নেন মালিকরা। তবে ওয়েবিলে স্বাক্ষরের বাইরে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যেসব যাত্রী তোলা হয়, তাতে যে ভাড়া আসে পরে তা ভাগ করে নেন চালক, শ্রমিক। অন্যদিকে লাইনম্যানরা প্রতি ট্রিপে ১০ টাকা নেন। এভাবে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আদায় হয় লাইনম্যানদের।
যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে ভাড়া নির্ধারণের যে আইন আছে সেখানে ওয়েবিলের কথা বলা নাই। রাস্তায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয় প্রতি কিলোমিটার হিসেবে। ওয়েবিলের নামে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত ভাড়া দিতে হবে পরিবহন আইন বা মোটরযান আইনের এ রকম কোনো নীতিমালা নেই। তারপরও দিনের পর দিন এই অবস্থায় নগরীর গাড়িগুলো চলছে। গাড়ির মালিকরা কোনো আইনের তোয়াক্কা করে না। অন্যদিকে পুলিশের ট্রাফিক সপ্তাহ, বিআরটিএ মোবাইল কোর্ট চললেও এই বিষয়টি আমলে নেওয়া হয় না।
ইত্তেফাক/কেআই

