নেশাগ্রস্ত স্বামীর অত্যাচারে জীবন থেকে বিদায় নিলেন গৃহবধূ

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২১:০৭

সাভারে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ স্বামী নুরে আলমকে গ্রেফতার করেছে। 

নিহত গৃহবধূ হাসিনা আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানার পুটাইল গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে। তিনি স্বামী নুরে আলমের সঙ্গে সাভারের কর্ণপাড়া এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। সিফাত নামের ওই দম্পতির দশ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিকালে সাভার পৌর এলাকার কর্ণপাড়া এলাকায় স্বামীর বাড়িতে শরীরে আগুন দেন গৃহবধূ হাসিনা আক্তার (৩৫)। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। 

সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিজাউল হক বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী ৯৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে পৌর এলাকার কর্ণপাড়া মহল্লার নুরে আলমের বাড়ির দোতলায় তার স্ত্রী হাসিনা আক্তার শরীরে আগুন নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিলো। এ সময় তার চিৎকারে পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। কিন্তু ততোক্ষণে হাসিনার পুরো শরীর আগুনে ঝলসে যায়। 

অগ্নিদগ্ধ হাসিনার মা রাফেজা বেগম জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে নুরে আলমের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা জানতে পারেন নুরে আলম নেশাগ্রস্ত। বিয়ের পর তার মেয়ে নুরে আলমকে নেশা করতে বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এ নিয়ে স্বামী এবং শাশুড়ি মিলে আমার মেয়েকে মারধরসহ নানা ভাবে নির্যাতন করতো। 

তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৭ সালে হাসিনা স্বামীর সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। এরপর মানিকগঞ্জের সদর থানায় নুরে আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় নুরে আলম এক মাস হাজতবাস করে। পরে উভয় পরিবারের মধ্যে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে নির্যাতন না করার শর্তে পুনরায় স্বামীর সংসারে ফিরে যায় হাসিনা। কিন্তু এরপরও হাসিনার উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চলতে থাকে। তিনি অভিযোগ করেন- নুরে আলম ও তার পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার মেয়ে হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে কেরোসিন ঢেলে  আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।  

আরও পড়ুন: চোর ধরতে মানুষ মারা ফাঁদ, প্রাণ গেলো ৩ জনের

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এএফএম সায়েদ বলেন, নিহত গৃহবধূর মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

ইত্তেফাক/অনি