ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
২৭ °সে


ব্যাংকিং খাতে সংকট বা ভীতি দেখছি না: পরিকল্পনামন্ত্রী

ব্যাংকিং খাতে সংকট বা ভীতি দেখছি না: পরিকল্পনামন্ত্রী
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান (ফাইল ছবি)

‘প্রবৃদ্ধির সুফল পেতে সুশাসনের উন্নতি করতে হবে। বৈষম্য কমিয়ে আনতে না পারলে উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না। সুশাসন ও জবাবদিহিতা না থাকলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।’

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর উদ্যোগে অর্থনীতি ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিজিএস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম. আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চেীধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিজিএস নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

এতে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাজেট প্রস্তাবনা ও সর্বজন শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ এর চেয়ারপার্সন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা এবং আদায়ের মধ্যে বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান। ক্রমাগত ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতি মারাত্মক ঋণ-সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাত সবচেয়ে অবহেলিত। অবকাঠামোতে খরচ বাড়লেও গুণগত মান পরছে। বিদেশ থেকে জনশক্তি আনতে হচ্ছে। দেশে অসমতা বাড়ছে হু হু করে। বাজেটে সর্বজনের স্বার্থ রক্ষা না হয়ে গোষ্ঠীতন্ত্রের তথা সুবিধাভোগীদের স্বার্থই হাসিল হয়েছে। এটি দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অসমতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোকপাত করতে ব্যর্থ হয়েছে। নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা অর্থনীতিতে বিনিয়োগের চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। অর্থনীতিকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, গত ১১ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ আমরা দিয়েছি। এই স্থিতিশীলতা হাতছাড়া করতে চাই না। জনগণও চায় না। এই স্থিতিশীলতায় কেউ আঘাত করতে চাইলে জনগণই বাধা দেবে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সরকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। সরকার অন্যদের মতো ব্যলেন্স শিট মেলাতে রাত পার করে দেয় নি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঝুঁকি নিয়ে হলেও এসব প্রকল্প হাতে নিয়েছি। মেগা প্রকল্পগুলো অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে সরকার সচেতন রয়েছেন। এই খাতে আমরা সংকট বা ভীতি দেখছি না। এখনও কোন ব্যাংক ’কলাপস’ হয়নি, বন্ধ হয়ে যায়নি। এমন কিছু হয়নি যে ব্যাংক ধস হয়ে যাবে। আস্থার কারণে কোনো ব্যাংকে তো টাকা তোলার লাইনও পড়েনি। ব্যাংকিং খাতে কিছু ‘মিসম্যাচ’ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, মাঠে-ঘাটে, নদীর পারে জনগণ তাদের সঙ্গে আছেন। তা প্রমাণ করার জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার, যার ব্যবস্থা দেশে নেই। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ, যেখানে অনির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গ্রাহকদের চেকের টাকা দিতে পারছে না অনেক ব্যাংক। কারণ ব্যাংকের ভল্টে টাকা নেই। এক ব্যাংকের স্বীকৃত বিল অন্য ব্যাংক কিনছে না। বিদেশি ব্যাংকগুলো দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখতে দ্বিতীয় বার চিন্তা করছে। ব্যাংকের পরিচালকেরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আমাদের সময়ে কখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। অথচ এখন কি হচ্ছে, তা সবাই দেখছে।

আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে এসেছে মাত্র ৭ বিলিয়ন ডলার। এর পরেও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অনুযায়ী কী ভাবে হলো। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না, সরকার ব্যয় বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। ১০ টাকার কাজ ৫০ টাকায় করছে।

আরো পড়ুন: টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সেলিম জাহান বলেন, প্রবৃদ্ধি সংখ্যাগত দিক থেকে নয়, ভাবতে হবে কিসের প্রবৃদ্ধি, কার জন্য প্রবৃদ্ধি এবং কেমন প্রবৃদ্ধি? এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে। এই প্রবৃদ্ধি কতটা জনকল্যাণমূলক, কতটা কর্মসংস্থান বান্ধব, কতটা পরিবেশ বান্ধব সেটি দেখতে হবে। তিনি বলেন, পূঁজিঘন বিনিয়োগে মাধ্যমে কর্মসংস্থান না করেও প্রবৃদ্ধি বাড়ানো যায়। আমরা আয় ও সম্পদের অসমতা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সুযোগের অসমতা নিয়েও কথা বলতে হবে। অসমতা চাপা অসন্তোষ সৃষ্টি করে। অসমতা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বোমায় পরিণত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন প্রতিরক্ষায় বাজেট বরাদ্দ নিয়ে সংসদে আরো আলোচনার দাবি করে বলেন, এদেশ ‘ভাসুরের নাম মুখে নেওয়া যায় না’। প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সরকার অর্থ সংকট কাটাতে বন্ড বাজার শক্তিশালী করতে চাইছেন। বাংলাদেশ বন্ড মার্কেট চালু করা সম্ভব নয়। কারণ বড় বড় কর্পোরেটদের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তারা ঋণ খেলাপি, শেয়ারবাজার লুটেরা। বিশ্বাসযোগ্যতা ছাড়া বন্ড মার্কেটে কেউ বিনিয়োগ করে না।

এছাড়া, আলোচনায় অংশ নেন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, বিএনপির সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফ পাপিয়া, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েল উপ-উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিআইডিএস এর জ্যেষ্ঠ গবেষক নানজীন আহমেদ প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এমআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন