ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
৩৪ °সে


জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ রুখতে সেমিনার ও কর্মশালা

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ রুখতে সেমিনার ও কর্মশালা
সেমিনারে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। ছবি: ইত্তেফাক

বাংলাদেশ পুলিশের এন্টি টেরোরিজ্ম ইউনিটের উদ্যোগে ও কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট ফর পিস (সিডিপি)-এর আয়োজনে 'জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনে নাগরিক সম্পৃক্ততা' শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ জুন) সকালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান হয়। এতে অংশ নেন ঢাকার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। মূলত নতুন প্রজন্মকে সামাজিক সম্পৃক্ততার ব্যাপারে সচেতন করে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডকে এড়াতে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. জয়নাব ফারুকী আলী। এরপর বক্তব্য দেন এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মোঃ দিদার আহমেদ। পরে শুরু হয় মূল পর্ব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক স্কুল অব ডিজাইনের ডীন প্রফেসর ড. ফুয়াদ হাসান মল্লিক। তিনি তার বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তরুণদের ভূমিকার বিষয়টিতে আলোকপাত করেন। উগ্রবাদ ঠেকাতে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার খন্দকার লুতফুল কবির।

উন্নয়নে জঙ্গিবাদ একটি বাঁধা, এ বিষয়টি তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কার্ল ক্লাক। এরপর বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন ব্রিটিশ হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব লুসি ডেলি। আর প্রথম পর্ব শেষ হয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলামের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।

এ সময় বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে ধরা পড়া জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তাদের আশিভাগই ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। বাংলাদেশে তিনটি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এরা হলো জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও হিজবুত তাহরির। এদের কেউ কেউ আবার আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

তারা বলেন, জঙ্গিবাদকে রুখতে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। জঙ্গিদের একটা বড় অংশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবাইকে মনিটর করতে পারে না। জঙ্গিবাদ রুখতে তরুণ সমাজকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে বলে মত দেন বক্তারা।

প্রথম পর্বের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও কয়েকটি দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পৃথক-পৃথক বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বসেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে তা অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। আর সামগ্রিক বিষয়কে পর্যালোচনা করে অনুষ্ঠান মঞ্চে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

পরবর্তী পর্বে বক্তব্য রাখেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ভিনসেন্ট চ্যাঙ, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ইয়ার্ল আর মিলার, অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাই-কমিশনার পেনি মরটন এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাই-কমিশনার কানবার হোসেন বর। শিক্ষার্থীদেরকে ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেন তারা।

আরও পড়ুন: ফুলবাড়ীতে দিনমজুরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

শেষ পর্বের আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। পরে গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ভিন্নধর্মী এই আয়োজনের।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন