পর্যায়ক্রমে পলিথিনের উৎস বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে 'পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা' শীর্ষক এক মত বিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ বন্ধে সারাদেশে ৮টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণকে নিয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পলিথিনের উৎস বন্ধ করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'গত ৬ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর পলিথিনের বিরুদ্ধে সারাদেশে ১২২টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১২৬ টন পলিথিন জব্দ ও ৪৪ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। ৬৪টি জেলায় জেলা কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ৮টি বিভাগীয় শহর এবং ৩৬টি জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় স্থাপন করে জনবল পদায়ন করা হয়েছে।'
পরিবেশ রক্ষায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে শাহাব উদ্দিন বলেন, 'গণমাধ্যম হচ্ছে জনগণের কণ্ঠস্বর এবং সরকারের সহযোগী। যে কোনো কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করে সেই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে গণমাধ্যম। তাই আমরা আমাদের সকল কাজে আপনাদের অব্যাহত সহযোগিতা পেয়ে আসছি, আশা করি আগামীতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে দূষণের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন সম্পর্কে আরও ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে।'
আরও পড়ুন: সারিয়াকান্দিতে বন্যায় ৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত
তিনি বলেন, 'পরিবেশ দূষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হচ্ছে। দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তরল বর্জ্য নির্গমণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রযোজ্যক্ষেত্রে ইটিপি, এটিপি, সাউন্ড ব্যারিয়ার স্থাপন ও পরিচালনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।'
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব মনজুরুল হান্নান খান, আলমগীর মোহাম্মদ মনসুরুল আলম, ড. নূরুল কাদির, ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীপক কান্তি পাল, প্রধান বন সংরক্ষক শফিউল আলম চৌধুরী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রফিক আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি

