১৫ জুলাই মাস থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পুরান ঢাকায় ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন নতুন ডেঙ্গু রোগীর আগমনে মিটফোর্ড হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে ১৫৮৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে এসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ঢাকা দক্ষিণ এলাকার ডেমরা, শ্যামপুর, কদমতলী, সুত্রাপুর, লালবাগ ও হাজারীবাগের ১৭ থানা ও কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার ও সিরাজদিখানের ৪ থানাসহ মোট ২১ থানা থেকে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৫৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।
তাদের মধ্যে চিকিৎসারত অবস্থায় ৭ জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। এরা হলেন মাদারীপুরের জুলহাস, সিরাজদিখানের আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবাজারের কাফিয়া এবং কেরানীগঞ্জের তিনজন সৌরভ, কায়েব ও ফাহিম।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের উপ পরিচালক ড. নির্মল কুমার সেন জানান, জুলাইয়ের প্রথম দিক থেকে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়েতে থাকে। মিটফোর্ড হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের তিনটি ভবনে তিনটি নতুন সেল খোলা হয়। এদের মধ্যে একটি শিশু ওয়ার্ড, নারী ওয়ার্ড ও একটি পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে।
কদমতলী এলাকার ডেঙ্গু রোগী মাজেদা অভিযোগ করে জানান, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে সিরিয়াল না পেয়ে মিটফোর্ডের পাশে ঢাকা হাসপাতালে ১২শ টাকা দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়েছে।
পুরাতন টিনশেড বিল্ডিংয়ের মফিজ উদ্দিন জানান হাসপাতালে তীব্র পানি সংকট। জরুরি কাজে বাথরুমে কখনোই পানি পাওয়া যায় না। তাছাড়া মিটফোর্ড হাসপাতাল সংলগ্ন ডানে, বামে ও বিপরীতে মডার্ন ক্লিনিক, ঢাকা ক্লিনিকসহ ৮ থেকে ১০টি প্রাইভেট ক্লিনিকের দালালরা রোগীদের কম টাকায় ভালো ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফুসলিয়ে নিয়ে কয়েক হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দিয়ে ওই সব রোগীদের সর্বশান্ত করছে।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের প্যথলজি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, এখানকার পরীক্ষাগারে কাজ করা ব্যক্তি প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন রোগীর পরীক্ষা করেন। বাকী ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীকে কৌশলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকগুলোতে পাঠিয়ে দেয়। এভাবে তারা ওই ক্লিনিক থেকে মাসোহারা নেয়।
আরও পড়ুন: দপ্তরীকে নির্যাতনের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের এসআই ক্লোজড
আর এসব কারণে প্রতিদন মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে কয়েক শত রোগী বিভিন্ন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালটিতে তিনটি ভবনে এখনও ৫শ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে।
ইত্তেফাক/নূহু

