ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরেছে ২২৪ প্রাণ

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরেছে ২২৪ প্রাণ
ছবি: সংগৃহীত

এবার ঈদুল আজহায় সড়ক, রেল ও নৌ-পথে মোট ২৪৪ টি দুর্ঘটনায় ২শ ৫৩ জন নিহত ও ৯শ ৮ জন আহত হয়েছেন। ২০৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২শ ২৪ জন নিহত ও ৮শ ৬৬ জন আহত হয়েছেন। আজ রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন- ২০১৯ প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে এবারের ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি, রেলপথে সিডিউল বিপর্যয়, টিকিট কালোবাজারি, ফেরি পারাপারে ভোগান্তিসহ নানা কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে।

তিনি বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৬.৪০ শতাংশ, নিহত ৬.২৫ শতাংশ আহত ১.৫০ শতাংশ কমেছে। এ বছর ২শ ৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭টি মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ৩৩ শতাংশ। যেখানে মোট নিহতের ৩৪.৩৭ শতাংশ ও মোট আহতের ৮.৪২ শতাংশ। অন্যদিকে পথচারীকে গাড়ী চাপা দেওয়ার ঘটনায় ৫২.২১ শতাংশ। আগামী বছর এ দুটি ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, ঈদ শুরুর দিন ৬ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বিগত ১২ দিনে ২০৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ৩৭ জন চালক, ৩ জন শ্রমিক, ৭০ জন নারী, ২২ জন শিশু, ৪২ জন ছাত্র-ছাত্রী, ৩ জন সাংবাদিক, ২ জন চিকিৎসক, ৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ৩ জন রাজনৈতিক নেতা, ৯শ যাত্রী ও পথচারী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ১১ টি, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ১টি, ট্রেন যানবাহন সংঘর্ষে ১টি, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যায় ১টি ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌ পথে ২৪ টি ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৫৯ জন নিখোঁজ ও ২৭ জন আহত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে ঈদুল আজহায় ১৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২শ ৪৮ জন নিহত ও ১ হাজার ৫৫ জন আহত হয়েছিল। ২০১৭ সালে ২১৪টি দুর্ঘটনায় ২শ ৫৪ জন নিহত ও ৬শ ৯৬ জন আহত হন। আর ২০১৮ সালে ২৩৯টি দুর্ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ও ৯৬০ জন আহত হন। এবার আগের বছরের তুলনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা দুটোই কমেছে।

আরও পড়ুন: ঘুষ যিনি খান ও দেন উভয়ে অপরাধী: প্রধানমন্ত্রী

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, যতোদিন চালক ও সহকারীদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে না ততোদিন আমাদের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করতেই হবে। ঈদের সময় অতি মুনাফার আশায় চালক, সহকারী ও গাড়ি মালিকরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এবার ঈদের আগের চেয়ে পরের দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। ঈদের আগে সড়ক দুর্ঘটনা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। ঈদের পরে বেড়েছে। কারণ চালকরা বিশ্রাম নিতে পারেনি। ঈদের আগে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীসহ র‌্যাব ও বিভিন্ন সংস্থা যেভাবে মনিটরিং করে পরে সেভাবে হয়না। ফলে আশঙ্কাজনকভাবে দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। আমরা ঈদের আগে ও পরে একইভাবে মনিটরিং দেখতে চাই। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহ সভাপতি তাওহিদুল হক লিটনসহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/কেকে

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন