র‌্যাগের নামে নির্যাতন: বহিষ্কৃত ৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:২৮

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীকে র‌্যাগ দেওয়ার ঘটনায় ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ২৯ ধারা ও দণ্ডবিধির ৩৪২ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর ড. নাজমুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (ইটিই) ২য় বর্ষের ছাত্র মো. শিপন আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মো. শাহিন মিয়া, টাঙ্গাইলের নাগরপুরের নাদিম ইসলাম, শেরপুরের নাকলীর হৃদয় কুমার ধর, ভোলা সদরের তুর্য্য হাওলাদার ও ফরিদপুর জেলার মধুখালীর আশিকুজ্জামান লিমন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বশেমুরবিপ্রবির কৃষি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. রাজেশ হোসাইন শিথিল ও মাহামুদুল হাসানকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে গোবরা এলাকার সোবাহান সড়কের অলি সাহেবের মেসের ভেতরে নিয়ে বেআইনিভাবে আটক করে অমানুষিক শারীরিক, মানসিক নির্যাতন, অশ্লীল বক্তব্য, অশালীন আচরণ, শারীরিক আঘাত ও হুমকি প্রদর্শন করেন ওই ৬ শিক্ষার্থী। সেই সঙ্গে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এ ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ৬ শিক্ষার্থীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। এখন আমরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

আরো পড়ুন: একটি মাত্র পা, তা দিয়েই পরীক্ষা দিচ্ছে তামান্না

এর আগে গত সোমবার এই ৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হক জানান, সাক্ষ্য প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে ইটিই বিভাগের ৬ শিক্ষার্থী দোষী প্রমাণিত হয়। প্রক্টোরাল বডি ওই ৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের ছাত্র রাজেশ হোসেন শিথিল ও মাহামুদ আল হাসানকে ক্যাম্পাসের বাইরে গোবরা গ্রামের একটি মেসে নিয়ে র‌্যাগ দেন ওই ছয় শিক্ষার্থী। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে র‌্যাগ দেওয়া। তাদের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে টর্চার করা হয়। অশ্লীল মন্তব্য করে তাদেরকে বিপর্যস্ত করা হয়। বাধ্য করা হয় বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে। এমনকি নিজ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও কুরুচির মন্তব্য করেন ওই ৬ শিক্ষার্থী। পরে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভাইরাল হলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ