ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৭ °সে

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফন নিয়ে জটিলতা

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফন নিয়ে জটিলতা
ফাইল ছবি

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তার মৃতদেহ ঢাকার খিলগাঁও তালতলার একটি কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে; কিন্তু খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে সোমবার রাতে এখানে দাফন করার জন্য নিয়ে আসা হয়; কিন্তু এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে সেটি হয়নি। পরে পুলিশ মৃতদেহটি অন্যত্র নিয়ে যায়। পরে ঢাকার অপর একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন: কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িতে পার্সেলের বদলে এলো একদল মানুষ!

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা ইশতিয়াক বাবলা বলেন, গত সোমবার রাতে দেখি এলাকার অনেক মানুষ মিছিল করে কবরস্থানে যাচ্ছে। জানতে পারলাম, করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া কাউকে এই কবরস্থানে কবর দেওয়ার বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করছেন। কবরস্থানে কাউকে মাটি দিতে দেওয়া হবে না, এটাই আমার কাছে আশ্চর্য লাগে। যে কেউই তো আক্রান্ত হতে পারেন। তাহলে কোথায় কাকে মাটি দেওয়া হবে? এটা সম্পূর্ণ হুজুগের একটা ব্যাপার; কিন্তু এটা নিয়ে কথা বলার মতো পরিবেশ এখানে নেই।

তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের আশঙ্কা, যেহেতু এই কবরস্থানের ভেতর দিয়ে তারা হাঁটাচলা করেন, এখানে করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া কাউকে কবর দেওয়া হলে, তাদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি জানান, কবরস্থানের সামনে একটি ব্যানারও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া কাউকে এই কবরস্থানে কবর দেওয়া যাবে না। তাকে যেন অন্যখানে কবর দেওয়া হয়। খিলগাঁও-তালতলা কবরস্থানের সামনে ঝুলানো ঐ ব্যানারটির ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকেও। অনেকেই এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: ১৯ দিনের প্রচেষ্টায় করোনার ভ্যাকসিন তৈরি

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মোট ৯টি কবরস্থান রয়েছে। অন্য কবরস্থানগুলো পুরোনো ও বড়ো, যেখানে প্রতিদিনই একাধিক মৃতদেহ দাফন করা হয়। খিলগাঁও তালতলার কবরস্থানটি নতুন এবং চাপ কম থাকে। এ কারণে গত ১৯ মার্চ দুই সিটি করপোরেশন মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে, করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের এখানে দাফন করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের এই কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত এখনো বহাল আছে। তবে এলাকাবাসী এ নিয়ে আপত্তি করেছেন বলে আমরা শুনেছি। তাদের সঙ্গে আলাপ করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রিত কবরস্থানে স্থানীয় জনতার নামে ব্যানার টাঙানো যায় না বলেও তিনি জানান।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন কেউ মারা গেলে, মৃতদেহ সরানো, পরিবহন, সত্কার বা দাফনের আগে অবশ্যই রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) জানাতে হবে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী একটি প্রটোকল তৈরি করেছে আইইডিসিআর। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৪ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন