ফিন্স-ওয়ার্নারে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয়

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ০৯:২৫

অস্ট্রেলিয়ার জন্য লক্ষ্যটা সহজই ছিল। ম্যাচের ফলও অনেকটা অনুমিত ছিল। হয়েছেও তাই। আফগানিস্তানের দেওয়া ২০৮ রানের লক্ষ্য সহজেই পুরণ করতে সক্ষম হয়েছে অসিরা। ৭ উইকেটের বড় জয়ে এবারের বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করলো অস্ট্রেলিয়া। 

ম্যাচ হারলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াইয়ে শক্তির ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে আফগানিস্তান। এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে চলতি বিশ্বকাপ ম্যাচে কিছুটা হলেও উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেছে।
 
স্বমহিমায় ডেভিড ওয়ার্নারের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তিদায়ক। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে অ্যারন ফিঞ্চকে নিয়ে ৯৬ রানের দারুণ একটি ওপেনিং জুটি গড়েন ওয়ার্নার। শুরুতে ওয়ার্নার একটু ধীরস্থির খেললেও ফিঞ্চ খেলেছেন আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে। 

তবে দলীয় ৯৬ রানে মুজিবুর রহমানের বলে গুলবাদিন নায়েবের হাতে ধরা পড়েন ফিঞ্চ। এর আগেই ৪৯ বল থেকে ৬টি চার ও চারটি ছক্কার মারে ৬৬ রান করেন তিনি। ওসমান খাজাকে নিয়ে পরে ওয়ার্নার ম্যাজিক শুরু হয়। দলীয় ১৫৬ রানে ওয়ার্নারকে রেখে খাজা (১৫) বিদায় নেন। এবার ওয়ার্নারের সঙ্গে জুটি বাঁধেন স্টিভেন স্মিথ। তবে লক্ষ্য থেকে ৩ রান দূরে থাকতেই আউট হয়ে যান স্মিথ (১৮)। 

তাই শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের সহজ জয় দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করলো অস্ট্রেলিয়া। ১১৪ বল থেকে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ওয়ার্নার। আফগানিস্তানের পক্ষে মুজিবুর রহমান গুলবাদিন নায়েব ও রাশিদ খান একটি করে উইকেট নেন। 
এর আগে শনিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করে ৩৮.২ ওভারে ২০৭ রান করে অলআউট হয় আফগানিস্তান। পাকিস্তাান-শ্রীলঙ্কার ব্যর্থ সূচনার পর এশিয়ার দল হিসেবে আফগানিস্তানও শুরুতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দুইশ এর উপরে স্কোর গড়ে কিছুটা হলেও মান বাঁচাতে সক্ষম হয়। 

শুরুতে ব্যাট হাতে নেমে বড় ধাক্কা খায় আফগানরা। দলীয় ৫ রানেই দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও হজরতুল্লাহ জাজাই ফিরে যান রানের খাতা খোলার আগেই। তৃতীয় উইকেটে রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শাহিদি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে ৫১ রান তোলার পর এই জুটিও ভেঙে যায়। তখন হাসমতল্লাহ ফিরে যান ২১ রান করে। এরপর দলীয় ৭৫ রানে রহমত শাহ (৪৩) রান করে ফিরেন সাজঘরে। মোহাম্মদ নবীও আউট হয়ে যান এরপরই।

ষষ্ঠ উইকেটে গুলবাদিন নায়েব ও নজিবুল্লাহ জাদরান প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। দলীয় ১৬০ রানে গুলবাদিন নায়েব আউট হলে ৮৩ রানের জুটি ভাঙে। এরপরই ইনিংস সর্বোচ্চ ৫১ রান করে ফিরেন নাজিবুল্লাহ জাদরান। তাকে অনুসরণ করেন দাওলাত জাদরান। তাই ৬ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে দলটি আবার চাপে পড়ে।

শেষ দিকে রাশিদ খানের ব্যাটে ঝড় উঠে। মাত্র ১১ বল থেকে ২৭ রান করে দলের স্কোরকে দুইশ পার করতে মূল ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে দলীয় ২০৫ রানে অ্যাডাম জাম্পার বলে রাশিদ খান এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। দলীয় স্কোরে আর দুই রান যোগ হতেই শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে যান মুজিব। তাই ২০৭ রানেই থামতে হয় আফগানদের।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীর নির্লোভ কলেজ ছাত্র আরোজ

অসি বোলারদের মধ্যে প্যাট কামিন্স ও অ্যাডাম জাম্পা তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া মার্কস স্টয়েনিস নেন দুটি উইকেট। 

ইত্তেফাক/কেআই/নূহু