ক্লাসরুম দখল করে অবৈধ বসতি!

ক্লাসরুম দখল করে অবৈধ বসতি!
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ক্লাসরুম দখল করে অবৈধ বসতি গড়ে তুলেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও সরছে না এসব অবৈধ বসতি। একাডেমিক ভবনে থাকা সকল কর্মকতা-কর্মচারীদেরকে ভবন ছাড়তে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে একাডেমিক ভবন ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপরও দখলমুক্ত না হওয়ায় গত ১৪ জানুয়ারি ফের প্রজ্ঞাপন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কোন একাডেমিক ভবনে কেউ বসবাস বা রাত্রিযাপন করতে পারবে না।

জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে বসতি স্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে তোলা তাদের এসকল বসতির জন্য ক্লাস রুমের পরিবেশ নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসরুমের সামনেই তাদের বসতি স্থাপনের ফলে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক ও শৃঙ্খল শিক্ষা কার্যক্রম।

আরও পড়ুন: ক্যাম্পাস ও বঙ্গমাতা হল খুলে দেয়ার দাবি

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বজলুর রহমান একাডেমিক ভবনের অর্থনীতি বিভাগের ক্লাসরুমের সামনে সিঁড়ির নিচে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ভূগোল বিভাগের সেকশন অফিসার সানভীব আহমেদ বাচ্চু। রসায়ন বিভাগের ক্লাসরুমের পাশে সিঁড়ির নিচে বসতি গড়েছেন সামসুল আলম নামে ইতিহাস বিভাগের আরেক কর্মকর্তা। একই বিভাগের পাশে সিঁড়ি ও ক্লাসরুমের মাঝখানে নিজস্ব বাসা বানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সেকশন অফিসার আবু ইমরান, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সেকশন অফিসার জাবেদ আলী খান ও বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার আক্তার হোসেন। এছাড়া ভাষা শহীদ রফিক ভবনের পেছনে দেয়াল ঘেঁষে ক্যাম্পাসের ড্রেন বন্ধ করে বসবাস করছেন ভিসি দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জামাল হোসেন, শামসুল আলম বকাউল ও খোকন নামে তিন কর্মকর্তা।

এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূগোল বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন বাসচালক মনির। পরিসংখ্যান বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন হারুনুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও মো ফারুক। তারা ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের কর্মচারী। বজলুর রহমান ভবনে থাকেন কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক তাজুল ইসলাম ও বাসচালক খোকন। অন্যদিকে উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন আব্দুল খালেক, মো. টিপু, মো. আজিজ নামে তিনজন কর্মচারী।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, ক্লাস চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তারা কখনো লুঙ্গি পরে, কখনো দাঁত ব্রাশ করতে করতে অথবা সম্পূর্ণ অগোছালো অবস্থায় রুম থেকে বের হন। এমতাবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। বিশেষ করে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটা আরও অস্বস্তিকর। এরূপ পরিস্থিতিতে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সাক্ষরিত সেই নির্দেশে ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০ এর মধ্যে তাদেরকে একাডেমিক ভবন ছাড়তে বলা হয়। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে তারা সেখানেই বসবাস করছেন। কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কর্মচারীরাও ঘাঁটি গড়েছেন একাডেমিক ভবনগুলোতে।

আরও পড়ুন: জানুয়ারি পর্যন্ত বিলম্ব ফি মওকুফ

ভাষা শহীদ রফিক ভবনের পেছনে দেয়াল ঘেঁষে ক্যাম্পাসের ড্রেন বন্ধ করে বসবাস করা ভিসি দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি এর বাইরে যাবো না। দ্রুতই আমি অন্য যায়গায় চলে যাবো।’

ভূগোল বিভাগের শানভীব আহমেদ (বাচ্চু) বলেন, ‘আমি এখন ঢাকার বাহিরে আছি, ঢাকায় এসে আমি প্রশাসনের সাথে কথা বলবো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘একাডেমিক ভবন ছাড়তে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকে কিছুদিন সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। সেটা কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করেছে। তারা যদি বসতি না ছাড়ে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে।’

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x