ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৭ °সে


কর্মবিরতিতে অচল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

কর্মবিরতিতে অচল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ দফা দাবীতে কর্মচারীদের কর্মবিরতি। ছবি: ইত্তেফাক

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির তৃতীয় দিনে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছে কর্মচারী ইউনিয়ন (৪র্থ শ্রেণি)। বুধবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের শেখ রাসেল চত্বরে ১০ দফা দাবি আদায়ে কর্মবিরতি শুরু করে তারা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম।

কর্মচারীদের দাবী গুলোর মধ্যে রয়েছে, আগামী সিন্ডিকেটের আগে কর্মচারীদের নীতিমালা পাশ, চলতি মাসেই ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া পরিশোধ, দ্রুত পেনশন নীতিমালা বাস্তবায়ন, সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মচারীদের চাকরীতে পুনর্বহাল, দূরের কর্মচারীদের জন্য গাড়ি ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার বিচার করা, কর্মচারী নিয়োগ কমিটিতে কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি রাখা ও মাস্টারোল কর্মচারীদের চাকরী স্থায়ী করা।

কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম বলেন, ‘বরাবরই আমরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হই। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিদ্রুত আমাদের দাবি মেনে নেবে। অন্যথায় সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলতেই থাকবে।’

এদিকে তৃতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আমিনুর রহমানকে অব্যাহতি, ডেপুটি রেজিস্টার গোলাম মোস্তফাকে সংস্থাপন শাখা থেকে অন্য দপ্তরে বদলিসহ ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি করছেন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার কর্মবিরতির তৃতীয় দিনে সকাল ১০টা থেকে রেজিস্টার দপ্তরের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

কর্মকর্তাদের ১১ দফার অন্যান্য দাবিগুলো হলো- পদোন্নতি কর্মকর্তাদের স্থায়ীকরণ অবিলম্বে সম্পন্ন করা, যেসব কর্মকর্তার পদোন্নতি বোর্ড হয়নি তাদের বোর্ড দ্রুত সম্পন্ন করা, যেসব কর্মকর্তার পদবী বদল করা হয়েছে তাদের স্বপদে ফিরিয়ে আনা, সরকারি নিয়মে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম প্রস্তুত করা, প্রতিটি দপ্তরকে নিজস্ব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক ভবনে কক্ষ বরাদ্দের নিমিত্তে যে কমিটি গঠিত হয়েছে তাতে জ্যেষ্ঠতার নীতি অবলম্বন করা, ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন পরিশোধ করা, হয়রানিমূলক বদলীকৃত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দফতরে পুনর্বহাল করা, রেজিস্টার কার্যালয়ে স্বতন্ত্রতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং রেজিস্টার কার্যালয়ের অধীনস্থ কর্মকর্তার নজরদারি বন্ধ করা।

আরো পড়ুন: একক প্রার্থীর নির্বাচনে উ. কোরিয়ায় ভোট পড়েছে ৯৯.৯৯ শতাংশ

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস উপাচার্য মহোদয় আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবেন। অন্যথায় ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলতেই থাকবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কমিলমউল্লাহ-এর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।

রেজিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অফিস করার পরিবেশ নেই।’

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন