টাকার অভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ৪৩০টি কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে।পর্যাপ্ত কর্মচারী না থাকায় বেশ কয়েকটি দপ্তর অকার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১৭ সালে জুন মাসে ইউজিসির কাছে শূন্য পদ পূরণে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি ইউজিসি।
অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন তিনটি আবাসিক হল ও একটি বিভাগ খোলার অনুমোদন দিলেও নতুন কোনো কর্মচারীর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে ইউজিসি বলছে, মঞ্জুরি কমিশন যখন কোনো হল ও বিভাগ খোলার জন্য অনুমোদন দেয় তখন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কোনোটির চারবছর আবার কোনোটির এক বছর পার হলেও কর্মচারী সংকটে এসব হল চালু করা যায়নি। তবে বিভাগ চালু করা গেলেও কর্মচারী সংকটের কারণে থমকে আছে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে সম্প্রতি দৈনিক ভিত্তিতে একজন চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। কোনো কর্মকর্তা না থাকায় বিভাগটির অফিসিয়াল কার্যক্রম দেখভাল করছেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডেপুটি রেজিস্টার মোহাম্মদ ফোরকান। এছাড়া ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে কর্মকর্তা না থাকায় এ বিভাগটির অফিসিয়াল কার্যক্রম দেখভাল করছেন রেজিস্টার অফিসের তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সেল প্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম।
গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে এক কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক মিডিয়া ল্যাব করা হলেও এটি পরিচালনার জন্য নেই কোনো টেকনিশিয়ান অথবা কর্মকর্তা, কর্মচারী। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টারের কাছে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও কর্মচারী পায়নি বিভাগটি।
২০১৭ সালের জুনে ইউজিসির কাছে একটি চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার দফতর। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি অনুষদ, ৫২টি বিভাগ, ৭টি ইন্সটিটিউট, ৫টি গবেষণা কেন্দ্র ও ১২টি হল রয়েছে। এছাড়াও অধিভুক্ত ২২টি কলেজ, একটি অনুষদ ও একটি ইন্সটিটিউট রয়েছে। এসব নতুন অনুষদ, বিভাগ, ইন্সটিটিউট ও অফিস সমূহের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সহায়ক জনবল নিয়োগে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই বছরে কর্মচারী নিয়োগে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ইউজিসির কাছে আরও দুটি চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর জন্যও অর্থ বরাদ্দ দেয়নি ইউজিসি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নতুন বিভাগে প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে আছে। এছাড়া কর্মচারী সংকটে নতুন তিনটি হলও চালু করা যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার কেএম নূর আহমেদ বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউট এবং হলে কর্মচারী নিয়োগে অর্থ বরাদ্দের জন্য ইউজিসির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর জন্যও অর্থ বরাদ্দ দেয়নি ইউজিসি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুই বছর ধরে শূন্য পদে কর্মচারী নিয়োগের অর্থ বরাদ্দ চেয়ে কয়েকবার ইউজিসিতে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো অর্থ বরাদ্দ পায়নি। সংকটের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে হচ্ছে। দৈনিক ভিত্তিতে কিছু কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে ইউজিসি কেন এই অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে না সেটা আমার বোধগম্য নয়।
আরও পড়ুন: নতুন বর-বৌ নিয়ে বরযাত্রীরা সাইক্লোন সেল্টারে
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আমি শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে থাকি না। সব সময় এসব বিষয় মাথায় থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ে বলতে পারবে কেন এই কাজ গুলো হচ্ছে না।
ইত্তেফাক/অনি

