সত্যজিতের ‘মহানগর’ দেখার স্মৃতি রোমন্থন করলেন আসাদুজ্জামান নূর

সত্যজিতের ‘মহানগর’ দেখার স্মৃতি রোমন্থন করলেন আসাদুজ্জামান নূর
সত্যজিৎ রায় ও আসাদুজ্জামান নূর। ছবি: সংগৃহীত।

দেশের প্রখ্যাত অভিনেতা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ‘পথের পাঁচালী আমাকে এতোটাই নাড়া দিয়ে ছিলো যে, ‘মহানগর’ সিনেমা দেখার জন্য বালক বয়সে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নীলফামারী থেকে ঢাকা এসেছিলাম। ১৯৭২ সালে যখন ঢাকার পল্টন ময়দানে সত্যজিৎ রায় এসেছিলেন, তাকে দেখার জন্য লক্ষাধিক মানুষ এসেছিলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওনাকে খুব সম্মান করেছিলেন।’

বুধবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘সত্যজিৎ রায়: জাতীয় ও বৈশ্বিক’ শিরোনামে বিশেষ সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালে ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে সত্যজিৎ রায়ের ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্র দেখার আয়োজন করে ভারতীয় হাইকমিশন। এই আয়োজনটি ছিলো শুধু ভিআইপিদের জন্য। সেই সময় আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ওই অনুষ্ঠানে থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেটাও ছিলো সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।’

আরও পড়ুন: ‘সত্যজিৎ রায় চাইলেই বিদেশি ভাষায় ছবি নির্মাণ করতে পারতেন’

এদিন মুম্বাই থেকে উৎসবে যুক্ত ছিলেন খ্যাতিমান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘সত্যজিৎ রায় কেবল বাংলার নয়, বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি চাইলেই বিদেশি ভাষায় সিনেমা নির্মাণ করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে বাংলা ভাষাকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে গেছেন তিনি।’

সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, ‘সে সময় রায় সাহেব অতটা অবস্থা সম্পন্ন ছিলেন না, খুব বেশি অর্থকড়ি ছিল না, একটা শট দু থেকে তিনবারের বেশি নেয়ার সুযোগ ছিল না, সেই অবস্থা থেকে বিশ্ব-দরবারে জননন্দিত হয়ে ওঠার পেছনে শ্রম ও মেধার অবদানই বেশি। আজকের তরুণ নির্মাতাদের জন্য সত্যজিৎ রায় অনেক বড় অনুপ্রেরণার নাম বলেও মন্তব্য করেন শর্মিলা ঠাকুর।’

আরও পড়ুন: ঢাকা উৎসবে সব্যসাচী-সুবর্ণার ‘গণ্ডি’

কলকাতা থেকে অনলাইনে সেমিনারে যোগ দেন আরেক বর্ষীয়ান অভিনেতা ধৃতিমান চ্যাটার্জি। সেমিনার আরও বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, বিচারপতি রিফাত চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x