তরুণদের নেশায় আসক্ত করছে ই-সিগারেট

বিশেষ অধ্যাদেশে আমদানি ক্রয় বিক্রয় বন্ধের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
তরুণদের নেশায় আসক্ত করছে ই-সিগারেট
বিশেষ অধ্যাদেশে আমদানি ক্রয় বিক্রয় বন্ধের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। ছবিঃ রয়টার্স

সিগারেট কোম্পানিগুলো তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট সেবনে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশল প্রচারণা চালাচ্ছে। যা তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। তাই খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই দেশের তরুণ সমাজকে রক্ষায় এখনই ই-সিগারেট বন্ধ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে সংশোধনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ই-সিগারেট আমদানির সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া জরুরি।

মঙ্গলবার ঢাকা অফিসার্স ক্লাব মিলায়তনে ‘তরুণদের নেশায় আসক্ত করতে নতুন হুমকি ই-সিগারেট : বন্ধের উপায়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। ‘টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রির্সাচ সেল’ এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।

মূল প্রবন্ধে অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশে ই-সিগারেট নিয়ে স্পষ্ট কোনো আইন না থাকায় সুলভ মূল্যে অহরহ ই-সিগারেট বাংলাদেশে আমদানি ও বিক্রয় করা হচ্ছে। সিগারেট কোম্পানিগুলো ই-সিগারেট কম ক্ষতিকর বলে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করছে। তবে এরই মধ্যে ই-সিগারেটের ভয়াবহতা থেকে জনগণকে রক্ষার জন্য ভারতসহ বিশ্বের ৪২টি দেশে ই-সিগারেট এবং ‘এইচটিপি’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৫৬টি দেশ ই-সিগারেট ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে।

প্রধান অতিথি ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া এমপি বলেন, ‘ই-সিগারেট বন্ধে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে আমরা ককাস তৈরি করব। আমরা বিশ্বাস করি ২০৪০ সালের আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত তামাকমুক্ত দেশ বাস্তবায়ন করব।’

সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে তামাক কোম্পানিগুলো ইউটিউব, ফেসবুক, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এছাড়াও যারা ধূমপান ছাড়তে চায় তাদের প্রচলিত সিগারেটের বদলে ই-সিগারেট ব্যবহারে উত্সাহিত করছে। ই-সিগারেটের প্রসার বন্ধে এখনই কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। আরো বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু ও সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু। অনলাইন জুম সফটওয়ারের মাধ্যমে যুক্ত হন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার এম এ মালেক, সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, নাটাবের সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, প্রফেসর ডা. এম এইচ মিল্লাত, প্রফেসর মাসুদা রশিদ চৌধুরী। এছাড়াও দেশ-বিদেশ থেকে শতাধিক তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মী জুম সফটওয়ারের মাধ্যমে আলোচনাসভায় যুক্ত হন।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত