ঢাকা সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭
২০ °সে

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ ও রাশিয়া ফেডারেশনের ডেপুটি মিনিস্টার (কৃষি) ইলিয়া ভি সেচটাকোভ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ছবি : পিআইডি

বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কারিগরি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে রাশিয়া। এই খাতসমূহে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সকল ধরণের সহযোগিতা করবে দেশটি। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে এ সম্পর্কিত একটি চুক্তি (প্রোটোকল) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ ও রাশিয়া ফেডারেশনের ডেপুটি মিনিস্টার (কৃষি) ইলিয়া ভি সেচটাকোভ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এ বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বিজ্ঞান ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠকে এই প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মনোয়ার আহমেদ ও ইলিয়া ভি সেচটাকোভ।

বৈঠকে বিশেষভাবে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ, বিমানখাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ব্যাংকিং লেনদেন সহজীকরণ, ভূ-তাত্বিক গবেষণা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি ও কারিগরি খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে ইআরডি সচিব বলেন, রাশিয়া স্বাধীনতার সময় থেকেই বাংলাদেশকে বিভিন্নখাতে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই প্রোটোকল চুক্তি। আগামী (২০২০) বছর মস্কোতে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বিজ্ঞান ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ব্যাংকিং খাতে লেনদেন সহজীকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।’

তিনি বলেন, চিংড়ি, চামড়া খাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে রাশিয়া সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ১০০টি ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কয়েকটি ইতোমধ্যেই চালু হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এখানে আসছে। এখানে রাশিয়া কি ধরনের সহযোগিতা দিতে পারে এই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে রাশিয়ার সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এজন্য কর ছাড়, মালিকানাসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঘোড়াশালে বিদ্যমান দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উন্নয়নে রাশিয়া সম্মতি দিয়েছে।’

বৈঠকে জানানো হয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুতের পাশাপাশি বিমানের উন্নয়ন, প্যাসেঞ্জার বিমান, পেট্রোবাংলাকে শক্তিশালীকরণ এবং শিক্ষার মান বাড়াতে রাশিয়া সহায়তা দেবে।

রাশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চলমান নির্মাণ কাজের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে। রাশিয়ান ফেডারেশন বিশ্বব্যাপী পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করছে। বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরিসহ তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান। বাসস

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন