যেভাবে কাটাব মাগফিরাতের দিনগুলো

যেভাবে কাটাব মাগফিরাতের দিনগুলো
যেভাবে কাটাব মাগফিরাতের দিনগুলো।ছবি: সংগৃহীত

মাগফিরাতের দ্বিতীয় রোজা আমরা অতিবাহিত করলাম, আলহামদুলিল্লাহ। বিশ্বময় করোনার ভয়াবহতার কারণে কেউ আজ নিরাপদ নয়। এখন কেবলমাত্র মহান আল্লাহ তাআলাই পারেন তার সৃষ্টিকে রক্ষা করতে। আমাদের উচিত মহামারি করোনার এ দিনগুলোতে বৃথা সময় নষ্ট না করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে বিশেষভাবে রত হওয়া।

পৃথিবীর সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তিনি ইচ্ছে করলে এক মুহূর্তেই পারেন বিশ্বের সব বালা-মুসিবত দূর করতে। কিন্তু এর আগে আমাদের সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। পবিত্র রমজানের এদিনগুলোতে আমাদের উচিত হবে রাত্রিগুলোকে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত রাখা আর সেজদার স্থানগুলোকে অশ্রুজলে সিক্ত করা। আমাদের প্রত্যেকের এ আত্মবিশ্লেষণও করা উচিত যে, আমরা কি আল্লাহর অধিকার এবং বান্দার অধিকার পরিপূর্ণভাবে আদায় করছি?

মাগফিরাতের এ দশকে উঠতে-বসতে সর্বাবস্থায় আমরা এ দোয়া পাঠ করব-‘আসতাগফিরুল্লাহ রব্বি মিন কুল্লি যামবিন ওয়াতুবু ইলাইহি।’ অর্থ: ‘আমি আমার প্রভু আল্লাহর কাছে আমার সমুদয় পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তারই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।’

বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আমরা যেহেতু বাসায় অবস্থান করছি আর এ সুবাদে হাতে প্রচুর সময়ও রয়েছে তাই এখন সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পিতামাতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘কোনো পিতা তার পুত্রকে উত্তম শিষ্টাচার অপেক্ষা অধিক শ্রেয় আর কোনো বস্তু দান করতে পারে না।’ (তিরমিজি)

তাই পিতামাতার উচিত হবে পুরো রমজানে সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দেয়ার বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আবার পিতামাতার প্রতিও সন্তানের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। পিতা-মাতার প্রতি আমাদের যা করণীয় এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমার প্রভু-প্রতিপালক একমাত্র তারই ইবাদত করার এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার তাগিদপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। তোমার জীবদ্দশায় তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হলে তুমি তাদের উদ্দেশ্যে বিরক্তিসূচক উহ্-ও বলো না এবং তাদেরকে বকাঝকা করো না, বরং তাদের সাথে সদা বিনম্র ও সম্মানসূচক কথা বলো। আর তুমি মমতা ভরে তাদের উভয়ের ওপর বিনয়ের ডানা মেলে ধর। আর দোয়ার সময় বলবে, হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি সেভাবে দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমায় লালনপালন করেছিল।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: আয়াত ২৩-২৪)

আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে থাকেন পরীক্ষা করার জন্য। অনেককে আল্লাহতাআলা প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেন ঠিকই কিন্তু সেই ধন-সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার না করার ফলে দেখা যায় সে ধ্বংস হয়ে যায় আবার কাউকে সন্তান-সন্তুতি দেন ঠিকই কিন্তু তাদেরকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করার ফলে এই সন্তান তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়।

আরো পড়ুন: লকডাউনে কেমন কাটছে রমজান

সন্তান-সন্ততি যদি প্রকৃত নৈতিকগুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে মাতা-পিতার জন্য তা একটি আজাব বই কিছুইনা। জীবন-বিধান আল কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন- ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার সৌন্দর্য। এ সন্তান-সন্ততি যদি আদর্শ চরিত্রের না হয় তাহলে তা হয় মা-বাবার জন্য পরীক্ষার কারণ-দুঃখের বোঝা।’ (সুরা কাহাফ: আয়াত ৪৬)

পরিশেষে এটাই বলতে চাই, আসুন রমজানের এই মাগফিরাতের দশকে নিজেদের পরিবারকে নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে বিশেষভাবে রত হই। আল্লাহতায়ালার কাছে নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চাই।

রমজানের এ দিনগুলো আমাদের সবার কাটুক আধ্যাত্মিকতা চর্চায়। এ দিনগুলোতে আমরা যা করতে পারি-পরিবারকে সাথে নিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাজামাত পড়া। ঘরেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারাবির নামাজ আদায় করা। নামাজের দোয়াগুলো অর্থসহ শেখা। নামাজের পর পবিত্র কোরআন থেকে দরসের ব্যবস্থা করা। কোরআন হাদিসের বিভিন্ন দোয়া মুখস্থ করা। কোরআনের বিভিন্ন সুরা মুখস্থ করা ও কুরআন চর্চা করা। বিভিন্ন ইসলামী বই পাঠচক্রের আকারে পড়া। আমাদের অনেকেরই হয়তো জানাজার দোয়া মুখস্থ নেই এটি মুখস্থ করে নেয়া। একত্রে সেহরি ও ইফতার করা। সেহরির পূর্বে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা।

তাই আসুন না মহামারির এই সময়টিতে পুরো পরিবারকে নিয়ে দোয়া, ইস্তেগফারে রত হই এবং আল্লাহপাকের কাছে মাগফিরাত কামনা করি।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত