মডেল মসজিদ: ইবাদত ও বহুমুখী সেবাকেন্দ্র

মডেল মসজিদ: ইবাদত ও বহুমুখী সেবাকেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

শুধু নামাজ আদায় নয়, মসজিদ হবে গবেষণা, ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র। হারিয়ে যাওয়া ইসলামের চিরায়ত এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনে একটি করে দৃষ্টিনন্দন মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল (১০ জুন) মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে একযোগে সারাদেশে নির্মিত ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। মুসলিম বিশ্বের এই প্রথম কোনো দেশের সরকার ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণের এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে সারা দেশে এই দৃষ্টিনন্দন মন জুড়ানো মসজিদগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উল্লেখ করেন। ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও মূল্যবোধের প্রচার, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তার এই পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্রের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মসজিদগুলো নির্মিত হচ্ছে। মসজিদগুলোতে নারী ও পুরুষের পৃথক নামাজ আদায় ছাড়াও লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, ইসলামি গবেষণা ও দাওয়া কার্যক্রম, হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন ও অতিথিশালা, লাশ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থা, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই মসজিদগুলোতে ইবাদতের পাশাপাশি আরো অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধেও সভা-সেমিনারের আয়োজন থাকবে। এই মসজিদগুলোতে প্রতিবন্ধীরা যাতে নামাজ পড়তে পারেন তাদের প্রবেশের জন্য আলাদা র্যাম রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. নাজিবর রহমান জানান, বিশুদ্ধ ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হবে এই মসজিদগুলো।

ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ মনে করেন, বাংলাদেশের মসজিদগুলো কেবল ইবাদতকেন্দ্রিক। কিন্তু ইসলামে মসজিদের যে মূল ধারণা তা হলো ইবাদতের পাশাপাশি মসজিদগুলো সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। তিনি মনে করেন, মডেল মসজিদগুলোতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থাকায় মানুষকে সহযোগিতা দেওয়া ও ইসলামের প্রকৃত সেবার দ্বার অবারিত হলো।

লেখক : বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক ও ধর্মীয় আলোচক।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x