ধারাবাহিক থ্রিলার

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ২)

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ২)
ধারাবাহিক থ্রিলার: সাইকোপ্যাথ (পর্ব ২)

পুলিশ অপরাধীর সঙ্গে একত্রে বসে ডিনার করছে, আর শোবরাজ পুলিশের নির্বুদ্ধিতা দেখে মজা লুটেছে। এই হলো গিয়ে বিকিনি-কিলার চার্লস শোবরাজ।

হুঁ! ধুরন্ধর বটে! স্বীকার করতে বাধ্য হন ডিটেকটিভ অলোকেশ।

শুধু ধুরন্ধর, এমন বুকের পাটা ক’জনের হয় বলো! উর্বী মাথা নেড়ে বলল।

তা ব্যাটা ধরা পড়লো কবে? পড়েছে তো! কৌতূহলী হন অলোকেশ।

উর্বী ওর পেপারে তথ্য হাতড়ায়। তারপর বলে, তেরেসাকে খুন করার পরে আরো অন্তত সাতটা খুন করে চার্লস শোবরাজ, অথচ পুলিশ তার টিকিও টাচ করতে পারেনি। কোনো কেসে তার সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা দেখা গেলেই ব্যাটা পগার পার। নিছক কর্পূরের মতো উবে যায়। তার পালানোর স্টাইলও ছিল অসাধারণ। রেলপুলিশের মাধ্যমে সীমানা পেরোনোর টিকিট কেটে, তাদের সঙ্গে জমিয়ে বসে ফিশ-কাটলেট খেয়ে তবেই পালাত চার্লস শোবরাজ। ট্রেন যখন সীমানার ওপার, তখন হয়তো পুলিশ খবর পেতো ব্যাটা শোবরাজই ছিল আসল খুনি। নাকের ডগা দিয়ে খুনি পালিয়ে যাবার পর পুলিশের নিজের হাত নিজে কামড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকতো না।

আঃ উর্বী, শোবরাজ অ্যারেস্ট হলো কবে? কীভাবে? ধৈর্যচ্যুতি ঘটে অলোকের।

১৯৭৩ সালে, নিজের দেশ সেই ভারতেই ধরা খায় সিরিয়াল কিলার চার্লস শোবরাজ। তবে কোনো খুনের কেসে নয়, অশোকা হোটেলের এক গহনার দোকানে ডাকাতি করতে গিয়ে সে ধরা পড়ে। সঙ্গে ছিল সাগরেদ চাঁতাল। আরেকটু হলেই পালিয়ে গেছিল, কিন্তু কথায় বলে না, সব খেলারই একটা শেষ থাকে, যাকে বলে চেকমেট। পগার পেরোতে গিয়েও আটকে যায় চার্লস শোবরাজ। তার দু বছরের জেল হয়, ছাড়া পেয়ে আবারও কাবুলেই ফেরত যায় চার্লস শোবরাজ। গিয়েই আবার খুন। এবার সে তার খুব কাছের বন্ধু গুপিরাজকে মেরে ফেলে।

মোটিভ কী ছিল? চোখ নাচান ডিটেকটিভ অলোকেশ।

কিলারের আবার মোটিভ! চোখের পাতা উল্টায় উর্বী।

কোনো কারণ ছাড়াই নিজের বন্ধুকে মারলো! ব্যাটা তো অকৃতজ্ঞ, জঘন্য একটা লোক! কী করে মেরেছিল শুনি?

স্রেফ গলা টিপে। উর্বী বলল। তবে তার আগে ভিকটিম গুপিরাজকে চার্লস চায়ের সঙ্গে গুলে বিষ খাইয়েছিল। বেশি মাত্রায় সেঁকোবিষ। তাতেই সে জ্ঞান হারায়। তারপর লাশের পাশে বসে রাতভর গান গেয়েছে শোবরাজ। অবশেষে রাত যখন ভোর ভোর, তখন সে গলা টেপে গুপিরাজের। লাশ ফেলেই সে হাপিস হয়ে যায়, কাবুল ছেড়ে সোজা প্যারিস।

রাত অনেক হলো, তা-ই না উর্বী! যাও, এবার শুতে যাও। অলোক বললেন।

উর্বী কব্জি উল্টে ঘড়ি দেখে। মাঝারি ডায়ালের সেলক্স ইউনিসেক্স ওয়াচ বলছে, রাত তেরোটা বেজে কুড়ি মিনিট।

হুঁ, যাই এবার। বড্ড ঘুম পাচ্ছে। উর্বী উঠে পড়ল। কিন্তু উঠলেই কি আর যাওয়া যায়! বা খিদে পেলেই খাওয়া হয় না।

উর্বী পার্স হাতে নিয়ে উঠতে যাবে, ঠিক তখনই দরজার ওপাশে গোঙানির মতোন আওয়াজ। প্রথমে মনে হয়েছে, ভুল শুনছে ওরা।

উর্বীই বলল, শুনতে পাচ্ছ, একটা আওয়াজ!

কই, না তো! অলোক এপাশ-ওপাশ মাথা নাড়লেন।

আরে, ওই তো! কেউ যেন প্রচণ্ড ব্যথায় গোঙাচ্ছে। একটু ভালো করে কান পেতে শোনো। উর্বী বলল।

শব্দটা ক্রমশ প্রকট হয়, ফলে তা অলোকেরও কান এড়ায় না। অলোকেশ বললেন, আরে, তা-ই তো! দরজার ওধারে কেউ যেন একজন আছে। কষ্টের শব্দ করছে।

উর্বী কী করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। কী বলো, দরজা খুলবো?

অবশ্যই। চলো, আমিও যাই।

উর্বী ঠিক সায় পায় না। একে তো বিদেশ-বিভূঁই, তাও আবার মধ্যরাত। এই রাতে দরজা খোলাটা কি ঠিক হবে! কিন্তু অলোক ততক্ষণে দরজার কাছে পৌঁছে গেছে। পেছনে উর্বী। এক যাত্রায় তো আর পৃথক ফল হতে পারে না। দেখাই যাক, কী হয়!

চলবে . . .

সাইকোপ্যাথ (পর্ব-১)

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ৩)

ইত্তেফাক/আরএ

ঘটনা পরিক্রমা : ধারাবাহিক থ্রিলার,ধারাবাহিক উপন্যাস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত