খুলনায় বইপ্রেমীদের জন্য ‘বুক ব্যাংকের’ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

একজনের ঘরে পড়ে থাকা বই সংগ্রহ করে অন্যজনকে সরবরাহ
খুলনায় বইপ্রেমীদের জন্য ‘বুক ব্যাংকের’ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
নগরীর শিববাড়ি মোড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বুক ব্যাংক’-এর পসরা থেকে পছন্দের বই শেয়ার করছেন পাঠকরা। ছবি: ইত্তেফাক

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে এবার খুলনায় ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে হচ্ছে না প্রাণের ‘বইমেলা’। এ অবস্থায় বিভাগীয় শহর খুলনার শিববাড়ি মোড়ে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিল ‘এন্টারটেইনমেন্ট ইন অন গ্রুপ অ্যান্ড বুক ব্যাংক’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সোমবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাঠকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বুক ব্যাংকের বই শেয়ার করেন তারা। বইয়ের চাহিদা মেটাতে সংগৃহীত বই শেয়ার করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের।

বুক ব্যাংকের বইয়ের মধ্যে ছিল গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পাঠ্যবইসহ সাহিত্যের যাবতীয় সংগ্রহ। এসব বই দেখতে পাঠক, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সি জ্ঞানপিপাসুরা ভিড় জমিয়েছিলেন নগরীর শিববাড়ি মোড়ে। নগরীর সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাতিমা মাহবুব মারিয়া বলেছে, ‘বাবার সঙ্গে বুক ব্যাংকের বইয়ের পসরায় এসে ভীষণ ভালো লেগেছে। এখান থেকে আমি বেশ কয়েকটি বইয়ের নাম টুকে নিয়েছি।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিফাত আব্বাস বলেন, ‘সত্যিই এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ বইপ্রেমীদের বই পড়ার প্রতি আরো আগ্রহী করবে।’ আয়োজকেরা জানান, করোনার সময়েই বই পড়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে প্রত্যেকের। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এবার বইমেলা হচ্ছে না সর্বত্র। সে কারণেই তাদের এ আয়োজন। এভাবে পাঠকদের সঙ্গে বইয়ের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। পরে যাতে পাঠক তাদের চাহিদামতো বই সংগ্রহ করে পড়তে পারে।

বুক ব্যাংকের অ্যাডমিন মো. রিয়াদ আহমেদ বলেন, বইয়ের প্রয়োজন কখনোই শেষ হয়ে যায় না। একটি বই পড়া শেষে তার প্রয়োজন আপনার কাছে আর না-ও থাকতে পারে; তবে অন্য কারো কাছে সেই বই হতে পারে অতি প্রয়োজনীয়। সে কারণে কোনো বই ঘরে ফেলে অথবা বসিয়ে না রেখে বা কেজি দরে বিক্রি না করে ফেসবুক গ্রুপ বুক ব্যাংকের কাছে আপনাদের বইগুলো দিন। আপনার অপ্রয়োজনীয় বইগুলো আমরা পাঠকের সামনে তুলে ধরব। পাঠকের চাহিদামতো বইটি বিনা মূল্যে আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। প্যারিসের পর এশিয়া মহাদেশে খুলনাতেই প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ তারাই নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রিয়াদ আহমেদ আরো বলেন, ‘আমাদের বুক রোড আয়োজনটা এক দিনের, কিন্তু বুক ব্যাংক তো রয়েছেই। যে কেউ চাইলেই আমাদের কাছে তার অপ্রয়োজনীয় বইগুলো যেমন দিতে পারেন; ঠিক তেমনি যে কেউ চাইলে তার প্রয়োজনীয় বইসমূহ আমাদের বুক ব্যাংক থেকে সংগ্রহও করতে পারবেন।’ বইপ্রেমীদের জন্য এমন আয়োজন করতে পেরে বেজায় খুশি তিনি। পাঠক ও জ্ঞানপিপাসুদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান রিয়াদ আহমেদ।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x