মাঝ আকাশে সামাজিক দূরত্ব কতটা সম্ভব?

আপডেট : ১৩ মে ২০২০, ০৫:১৩

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মার্চ মাস থেকেই বিশ্ব জুড়ে বন্ধ হয়ে গেছে বিমান যোগাযোগব্যবস্থা। বেশির ভাগ দেশের এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে। কিছু দেশ লকডাউন পরিস্থিতি শিথিল করায় সীমিত পরিবেশে চালু হচ্ছে বিমানযোগাযোগ। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক রুটেও অনেক দেশ বিমান চলাচল শুরু করবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বিমানেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিধান চালু হতে পারে। কিন্তু মাঝ আকাশে বিমানের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কতটা সম্ভব?

 

লকডাউন উঠলেও যে বিমানে ভ্রমণের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ ও শর্ত বসানো হবে, তা বলাই বাহুল্য। বিমানভ্রমণের সময় ফেসমাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্রিটেনের সরকার ইতিমধ্যে পরিষ্কার করেছে, মে মাসের শেষ দিক থেকে বিদেশ থেকে যে কেউই বিমানে করে ব্রিটেনে গেলে তাকে ১৫ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কিন্তু বিমানযোগাযোগ চালু করার বিষয়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে সেটি হলো, বিমানের মাঝখানেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এটি হতে পারে এক সারি পর পর যাত্রীদের বসানোর নিয়ম।


এ নিয়ে অ্যাভিয়েশন খাতে বড়ো ধরনের তর্কবিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু কিছু এয়ারলাইনস যেমন—এমিরেটস, ইউরোপের ইজি জেট বা আমেরিকার ডেল্টা এয়ারলাইনস বলেছে, তারা কিছুদিনের জন্য দুই জন যাত্রীর মধ্যে একটি সিট খালি রাখতে প্রস্তুত। মার্চের শেষ থেকে বিমান বন্ধ রাখা ইজি জেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দুই যাত্রীর মাঝে একটি সিট খালি রাখতে তারা প্রস্তুত। ইজি জেটের প্রধান নির্বাহী ইয়োহান লান্ডগ্রেন বলেছেন, যাত্রীদের মধ্যে ভরসা তৈরি করতে মাঝের একটি সিট খালি রাখা এখন সংগত হবে। তিনি মনে করেন, এমনিতেই অদূর ভবিষ্যতে ভয়েই মানুষ বিমানভ্রমণ করতে চাইবে না, যাত্রীর চাপ থাকবে কম। ফলে মাঝের সিট খালি রাখা কোনো সমস্যা হবে না। আয়ারল্যান্ডের বিমান সংস্থা এয়ার লিঙ্গাসও একই ইঙ্গিত দিয়েছে। তারাই বলছে, সরকারগুলোরও উচিত কিছুদিনের জন্য এই ব্যবস্থা যেন বাধ্যতামূলক করা হয়।

আরো পড়ুন :‘তামিম অসাধারণ অধিনায়ক হবে’


কিন্তু সব এয়ারলাইনস সেটা মানতে রাজি নয়। ইউরোপে স্বল্প ভাড়ার যাত্রী বিমান খাতের অন্যতম জায়ান্ট রায়ান এয়ার জানিয়েছে, সিট খালি রাখার শর্ত চাপানো হলে তারা বিমান চালাবেই না। রায়ান এয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও লিয়েরি বলেছেন, এ ধরনের শর্ত হবে চরম বোকামির। তার যুক্তি, মাঝের সিট খালি রাখলেই তাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হবে না, বরং তাতে যাত্রী বিমান ব্যবসা অচল হয়ে পড়বে। এক সিট অন্তর যাত্রী বসানো নিয়ে সরকারগুলোর পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে কিছু শোনা যায়নি।


এয়ার ফ্রান্স সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে তাদের ফ্লাইট শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে, প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ফেসমাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার ও স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিমানবন্দরের কর্মচারীদের জন্য ফেসমাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক করছে। যাত্রীদেরও ফেসমাস্ক ও গ্লাভস পরতে বলা হবে। অন্যদিকে ব্রিটেনে প্রবেশের পর ১৫ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রসঙ্গে ব্রিটেনভিত্তিক এয়ারলাইনসগুলোর সমিতি এয়ারলাইনস ইউকে বলেছে, এটা হলে যাত্রী বিমানের ব্যবসা লাটে উঠবে। তাদের কথা, ১৫ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হলে ব্রিটেনের দিকে কেউই পা মাড়াবে না। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক সংস্থা আইসিএও বলেছে, এ বছরের প্রথম ৯ মাসে বিমানের যাত্রীর সংখ্যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ১২০ কোটি বা দুই-তৃতীয়াংশ কম হবে।—বিবিসি


ইত্তেফাক/এসি