ঢাকা সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
৩৩ °সে


মাসাকাদজার অন্তরে বাংলাদেশ

মাসাকাদজার অন্তরে বাংলাদেশ
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ছবি: সংগৃহীত

সম্মাননা দিয়েছিল বিসিবি। হ্যামিল্টন মাসাকাদজার হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতাহার আলী খান। নিজের দল থেকেও একটা স্মারক উপহার পেয়েছিলেন। যেখানে ছিল তার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতম কিছু মুহূর্ত। বিদায়ী ম্যাচে পাওয়া সবগুলো উপহার নিয়েই গত শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন মাসাকাদজা।

বাংলাদেশের সঙ্গে তার ক্যারিয়ার নানাভাবে জড়িয়ে। শেষ পর্যন্ত ১৮ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতিও টানলেন বাংলাদেশের মাটিতে। আন্তর্জাতিক, ঘরোয়া ক্রিকেট মিলে বহু ম্যাচ খেলেছেন এই দেশে। শুক্রবার বিদায়ের মাধ্যমে মাসাকাদজার ক্যারিয়ারে স্থায়ীভাবে খোদাই হয়ে গেল বাংলাদেশের নাম।

সংবাদ সম্মেলনে জিম্বাবুয়ের সাবেক এই অধিনায়ক দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, বাংলাদেশ তার কাছে ‘সেকেন্ড হোম’। তার হূদয়ে বিশেষ জায়গায় লালিত হয় বাংলাদেশ।

মাসাকাদজা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আমার সেকেন্ড হোম, মনের মধ্যে বিশেষ জায়গা আছে দেশটির জন্য। এখানে আমার অনেক বন্ধু হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলে ৩১৩ ম্যাচ খেলেছিলেন মাসাকাদজা। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছেন বাংলাদেশকে। তিন ফরম্যাটে টাইগারদের বিরুদ্ধে ৭১টি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।

এই ব-দ্বীপে নিজের কঠিন স্মৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে বাংলাদেশের কাছে টেস্ট সিরিজ হারের কথা উল্লেখ করেছেন মাসাকাদজা। তবে মধুর স্মৃতি হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে খেলার কথাই বলেছেন মাসাকাদজা। ২০১৬ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে খেলেছিলেন তারা।

সেই স্মৃতি মনে করে মাসাকাদজা বলেছেন, ‘মাশরাফির সঙ্গে এখানে একসঙ্গে খেলতে পারা আমার সব থেকে ভালো স্মৃতি। আমি মনে করি, তার কঠিন সময়ের কথা এখনও মানুষ জানেন না। সে কিভাবে ক্যারিয়ার সামলেছে সেটা অনেকেরই অজানা। আমি ওকে সব সময়ই বলি, তোমার নিজেকে নিয়ে বই লিখা উচিত।’

মাশরাফির সঙ্গকে নিজের জীবনের সেরা মুহূর্ত বলে জানিয়েছেন মাসাকাদজা। তিনি বলেছেন, ‘মাশরাফির অভিজ্ঞতা তরুণদের জন্য হবে অনুপ্রেরণা। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি ও বাংলাদেশ ক্রিকেটে যতটুকু দিয়েছে তার সবটুকু মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। আমি মনে করি ওর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আমার জীবনের অন্যতম সেরা। এটাকে আমার জন্য আশীর্বাদও বলা যাবে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিদায় বলার ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের জয়ের নায়ক ছিলেন মাসাকাদজা। তার ৭১ রানের ইনিংসেই শুক্রবার টি-২০ তে প্রথমবার আফগানদের হারানোর গৌরব অর্জন করেছিল জিম্বাবুয়ে। শেষবার ব্যাটিংয়ে নামার আগে দুই দল মিলে গার্ড অব অনার দিয়েছিল মাসাকাদজাকে। এই ভালোবাসা ও সম্মান ছুঁয়ে গেছে তার অন্তর।

৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেছিলেন, ‘ছেলেরা আমাকে যে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়েছে, সেটির মাঝ দিয়ে হেঁটে যাওয়া ছিল বিশেষ অনুভূতি।’

শেষবার আউট হয়ে যাওয়ার সময় অশ্রু ঝরেনি মাসাকাদজার চোখ থেকে। তবে ম্যাচের সকালে নাকি অশ্রুসজল হয়ে পড়েছিল তার চোখ। তিনি বলেছেন, ‘সকালে খানিকটা পড়েছে চোখের পানি, দলের সবার সঙ্গে যখন কথা বলছিলাম। যেদিন অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলাম, সেদিনও অশ্রু সামলাতে পারিনি। আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন