গন্ডারের চামড়া কেমন করে এত ভাঁজ ভাঁজ হলো

গন্ডারের চামড়া কেমন করে এত ভাঁজ ভাঁজ হলো
গন্ডারের চামড়া কেমন করে এত ভাঁজ ভাঁজ হলো

লোহিত সাগরের তীরে জনমানবহীন একটি দ্বীপে একজন পার্সি লোক বাস করত। লোকটির টুপি থেকে চতুর্দিকে সূর্যকিরণ ঠিকরে পড়ত। টুপি, একটা ছুরি আর চুলা নিয়ে সে সেখানে থাকত। একদিন পানিতে কিছু ময়দা গুলে সাথে চিনি, কুল আর কিশমিশ মিশিয়ে পার্শি লোকটি একটা কেক বানাল। কেকটা ছিল দুই ফুট লম্বা আর তিন ফুট চওড়া। তারপর কেকটা চুলার ওপর সেঁকতে দিল। অনেকক্ষণ সেঁকার পর কেকের রং গাঢ় বাদামি হলো আর চমৎকার সুগন্ধ ভেসে এল। কিন্তু যেই সে কেকে কামড় দিতে যাবে, ঠিক তখনি নাকের ডগায় একটা শিং আর ছোট ছোট কুতকুতে দুটো চোখ নিয়ে একটা গন্ডার তার দিকে আসতে লাগল। তখনকার দিনে গন্ডারের চামড়া বেশ মসৃণ আর গায়ের সঙ্গে লেগে থাকত, এখনকার মতো কুঁচকানো ছিল না। ঠিক নুহের নৌকার গন্ডারের মতো দেখতে, তবে আকারে অনেক বড়ো। তবে গন্ডারটা মোটেই ভদ্র ছিল না, এখনো অবশ্য নেই এবং ভবিষ্যতেও হবে না। কাছে এসেই গন্ডারটা ঘোঁত করে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে পার্সি লোকটা কেক ফেলে দিয়ে টুপি নিয়ে একটা পাম গাছে চড়ে বসল। সেখানেও টুপি থেকে রোদ ঠিকরে পড়তে লাগল।

গন্ডারটা নাক দিয়ে ঠেলে দিতেই কেকটা চুলা থেকে বালুর ওপর গড়িয়ে পড়ল। তখন সে শিংয়ের ডগায় কেকটা গেঁথে নিয়ে খেয়ে ফেলল। খাওয়া শেষে লেজ দোলাতে দোলাতে উপকূলরেখা থেকে দ্বীপের উঁচু জায়গায় জঙ্গলের দিকে চলে গেল। এদিকে পার্সি লোকটি পামগাছ থেকে নেমে চুলাটা এর পায়ার ওপর বসিয়ে একটা শ্লোক আউড়াতে শুরু করল:

একজন পার্সি কেক বানালো

আর সেই কেক সে নিয়ে গেল,

একটা মস্ত ভুল করলো।

এরপর যা হলো, তা স্বপ্নেও কল্পনা করা যায় না।

পাঁচ সপ্তাহ পর লোহিত সাগরে প্রচণ্ড লু হাওয়া শুরু হলো। গরমে সবাই গায়ের কাপড় খুলে ফেলল। পার্সি লোকটি মাথার টুপি খুলে ফেলল; গন্ডারও গোসল করার জন্য গায়ের চামড়া খুলে কাঁধে ফেলে সমুদ্র সৈকতে এল। তখনকার দিনে নিচে তিনটে বোতাম লাগিয়ে চামড়াটা সে একটা বর্ষাতির মতো পরত। সৈকতে পৌঁছে গন্ডারটা পিঠার কথা কিছুই বলল না, কেননা ওটা তো সে খেয়েই ফেলেছিল। চামড়াটা বালুর ওপর ফেলে রেখে অভদ্রের মতো সোজা পানিতে নেমে গন্ডারটা নাক দিয়ে বুদ্বুদ বের করতে লাগল।

আর এদিকে পার্সি লোকটা এসে দেখল গন্ডারের চামড়াটা বালুর ওপর পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ওর মুখে দুইবার হাসি খেলে গেল। সে চামড়াটার চারদিকে তিনবার নেচে নেচে হাত ঘষতে লাগল। তারপর তার তাঁবুতে গিয়ে টুপি ভর্তি কেকের কণা নিয়ে এল। কেননা পার্সি লোকটা শুধু কেক খেত। সে কখনো তাঁবুর মেঝে ঝাড়ু দিত না। তারপর চামড়াটা তুলে একবার ঝেড়ে ঘষতে শুরু করল। তারপর টুপি থেকে বাসি কেকের কণা আর পোড়া কিশমিশের টুকরাগুলো চামড়াটায় মেখে দিল। তারপর আবার পাম গাছে চড়ে বসে অপেক্ষা করতে লাগল কখন গন্ডারটা পানি থেকে উঠে এসে তার চামড়াটা গায়ে পরবে।

আর গন্ডার ঠিক তা-ই করল। তিনটা বোতাম এঁটে চামড়াটা সে গায়ে দিল। একটু পরই চামড়ার ভেতরে কেকের কণাগুলো তার গায়ে সুড়সুড়ি দিতে শুরু করল। চুলকাবার চেষ্টা করতেই অবস্থা আরো খারাপ হলো। তারপর সে বালুর ওপর গড়াগড়ি দিতে লাগল। যতই গড়াগড়ি দেয় কেকের ছোট ছোট কণাগুলো গায়ে আরো সুড়সুড়ি দিতে থাকে। তারপর সে ছুটে পাম গাছের কাছে গিয়ে গাছের কাণ্ডের গায়ে বার বার পিঠ ঘষতে লাগল। এত জোরে ঘষতে লাগল যে, চামড়াটার এক অংশ ভাঁজ হয়ে কাঁধের ওপর দিয়ে উঠে এল, আরেক ভাঁজ নিচের দিকে গেল। নিচের বোতামগুলো খুলে গিয়ে পায়ের ওপর চামড়াটা আরো এক ভাঁজ হলো। এতে গন্ডারের মেজাজ আরো চড়ে গেল, কিন্তু কেকের টুকরাগুলোর সুড়সুড়ানি কমল না। এগুলো তার চামড়ার ভেতর ঢুকে আরো সুড়সুড়ি দিতে লাগল। প্রচণ্ড চুলকানি নিয়ে ভীষণ রেগে সে এবার বাড়ি ফিরে গেল আর তখন থেকেই আজ পর্যন্ত প্রত্যেক গন্ডারের চামড়ায় বিরাট ভাঁজ দেখা যায় আর ওদের মেজাজও খুব চড়া থাকে। আর এর মূল হচ্ছে, ভেতরের সেই কেকের কণাগুলো।

তারপর পার্সি লোকটা টুপি মাথায় দিয়ে পাম গাছ থেকে নেমে এসে বালু থেকে তার চুলাটা তুলে নিয়ে সোনাপুতের জলাভূমির দিকে চলে গেল।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x