পদ্মা সেতুতে ১৭তম স্প্যান বসানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২ টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে সেতুটির মাঝামাঝি স্থানে ‘৪ডি’ নম্বর স্প্যানটি ২৮ ও ২৯ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয়। এ নিয়ে পদ্মা সেতু ২৫৫০ মিটার অর্থাৎ আড়াই কিলোমিটারেরও বেশি দৃশ্যমান হলো।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে স্পানটি বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর যাবতীয় কার্যক্রম শেষে দুপুর সোয়া ২ টার দিকে এটি খুঁটির ওপর বসানো হয়। এর ফলে পদ্মা সেতু ২৫৫০ মিটার অর্থাৎ আড়াই কিলোমিটারেরও বেশি দৃশ্যমান হলো। ১৬ তম স্প্যান বাসানোর মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে বসানো হলো এই স্প্যানটি। এর আগে ১৬ তম স্প্যানটি গত ১৯ নভেম্বর ১৬ ও ১৭ নম্বর খুঁটিতে বসেছিল। দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানায়, এখন এভাবেই দ্রুত স্প্যান বসবে।
‘৪ডি’ নম্বর স্প্যানটি কয়েক মাস আগেই স্থাপনের উপযোগী করে খুঁটির কিছুটা দূরে পদ্মা তীরে প্লাটফর্ম তৈরি করে সেখানে স্টোর করে রাখা ছিল। ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের আর ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে বহন করে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছে, ‘৪ডি’ স্প্যানটি ২৮ ও ২৯ নম্বর খুঁটির কাছে প্লাটফর্ম তৈরি করে নদীর তীরে রাখা ছিল। কিন্তু নদীর চ্যানেলের নাব্যতার কারণে স্প্যানটি সেখান থেকে তুলে এনে স্থাপনে বিলম্ব হয়েছে। পলি জমে থাকায় নাব্য সঙ্কটের কারণে ক্রেনবাহী জাহাজ খুঁটির কাছে পৌঁছাতে পারছিল না তাই স্প্যান বসাতে বিলম্ব হচ্ছিল। তবে দিনরাত ড্রেজিং করে ওই এলাকায় নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন আর কোন সমস্যা নেই। এছাড়া ৪ বা ৫ ডিসেম্বর ১৮তম স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। ১৮তম স্প্যানটি বসবে ১৭ ও ১৮ নম্বর খুঁটিতে। পরবর্তীতে ডিসেম্বরেই ২১ ও ২২ নম্বর খুঁটিতেও স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৩৩ ও ৩২ এবং ৩১ ও৩২ নম্বর খুঁটিতেও স্প্যান বসবে অল্প সময়ের মধ্যে। খুঁটি এবং স্প্যান তৈরি হয়ে যাওয়ায় দ্রুত অল্প সময়ের ব্যবধানে স্প্যান উঠতে থাকবে। এদিকে চীন থেকে আরও দু’টি স্প্যান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। সমুদ্র পথে ১৯ নভেম্বর বিকালে স্প্যান দু’টি মংলা পোর্টে এসে পৌঁছায়। শিগগিরই এই স্প্যান দুটিও মাওয়ায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সেতুর ৪২টি খুঁটির মধ্যে এরই মধ্যে ৩৩টি খুঁটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া আলোচিত ৭ নম্বর খুঁটির কাজ চলতি মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ৬ ও ৩০ নম্বর খুঁটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আর বাকি ৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭ ও ২৯ নম্বর খুঁটির কাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা-মেয়ের মৃত্যু
দায়িত্বশীল ওই প্রকৌশলীরা আরও জানায়, ঘন কুয়াশাসহ আবহাওয়া আর ভাসমান ক্রেনটির অ্যাংকরিংসহ সবকিছু অনুকূলে থাকায় ১৭তম স্প্যানটি অল্প সময়েই বসানো সম্ভব হয়েছে। সেতুটির মাঝামাঝি স্থানে চরে এই স্প্যান বসানো হয়। সকালে জাহাজটি পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে পিলারের উচ্চতায় তোলা হয়। স্প্যানটি রাখা হবে দুই পিলারের বেয়ারিং এর ওপর।
মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ‘৬এ’, ‘৬-বি’ ও ‘৬-সি’ পেইন্টিং শেষে পিলারের ওপর নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়ায় ৩১টি স্প্যান আছে। এর মধ্যে ১৬টি স্প্যান ইতিমধ্যে বসানো হয়েছে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। অনেক ষড়যন্ত্র পেরিয়ে পদ্মা সেতু এখন নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত গতিতে কর্মযজ্ঞ চলছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালে খুলে দেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএএম
